বাংলাদেশ আর কখনই পেছনে ফিরে যাবে না: আইনমন্ত্রী

প্রকাশ: সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১২:৪৭ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ আর কখনই পেছনে ফিরে যাবে না: আইনমন্ত্রী
সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত আলোচনা সভায় আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ আর কখনোই অতীতের মতো অন্ধকার দিনগুলোতে ফিরে যাবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, গত ১৭ বছরের মতো গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মামলা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ কিংবা মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো ন্যক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি বাংলাদেশে আর ঘটবে না।

আজ সোমবার (২৪ আগস্ট ২০২৬) সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘নির্বাচন পরবর্তী বাংলাদেশ: রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে বিএনপি জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সম্পূর্ণ অবিচল রয়েছে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, “আমি জাতীয় সংসদে এটি প্রকাশ্যেই বলেছি যে—এই সনদ বাস্তবায়ন করার জন্য ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ’ নামে একটি সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়ন করা প্রয়োজন। অনেকের মনে প্রশ্ন আসতে পারে, কেন অধ্যাদেশ জারি করা হলো না? কারণ হলো, সংবিধান সংশোধনের সমপরিমাণ কোনো পদক্ষেপ অধ্যাদেশের মাধ্যমে নেওয়া হলে তা স্বয়ং সংবিধানের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক হয়ে পড়ে। সংবিধান সংশোধনের সমকক্ষ কোনো বিষয়ে অধ্যাদেশ জারি করা আইনগতভাবে সম্ভব নয়। সে কারণেই নিয়মতান্ত্রিক আদেশের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।”

এ সংক্রান্ত আইনি মর্যাদা (লিগ্যাল স্ট্যাটাস) ব্যাখ্যা করে তিনি আরও বলেন, “সংবিধানের প্রথম ও তৃতীয় তফসিল অনুযায়ী, এ ধরনের নির্বাহী আদেশ জারির ক্ষমতা ১৯৭২ সালে যেদিন থেকে সংবিধান কার্যকর হয়, সেদিন থেকেই স্থগিত হয়ে গেছে। ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির আদেশের মাধ্যমে কিছু আইন প্রণীত হয়েছিল, যেগুলোর মর্যাদা ছিল আইনের সমতুল্য। তবে সংবিধানে স্পষ্ট বলা হয়েছিল, সংবিধান কার্যকর হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির আর এমন আদেশ জারির সুযোগ থাকবে না। আইন পাস হবে পার্লামেন্টে, আর পার্লামেন্ট অধিবেশন না থাকলে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে অধ্যাদেশ জারি করতে হবে।”

আইনমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, “এখানে কিছু বিভ্রান্তি ছড়িয়ে বিভাজন সৃষ্টির সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে বিএনপি অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানাচ্ছে—আমরা জুলাই সনদের দেখানো পথেই থাকতে চাই এবং সেই লক্ষ্যেই এগোতে চাই। আমাদের ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রাখুন; আমরা প্রয়োজনীয় সংস্কারের যৌক্তিক গন্তব্যে পৌঁছাতে সক্ষম হব।”

রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও আইনি সংস্কারের এই ঐতিহাসিক যাত্রায় দেশের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

মন্তব্য করুন