জাইমা রহমানের ছবি ব্যবহার করে প্রতারণা, আইনজীবী রিমান্ডে
স্টাফ রিপোর্টার: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের মেয়ে আদিবার ছবি ব্যবহার করে ফেসবুকে বার কাউন্সিল পরীক্ষার লোভনীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার আইনজীবী শফিক নজরুলকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের করা অপর এক মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর (শোন অ্যারেস্ট) আবেদনও মঞ্জুর করেছেন বিচারক।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত এই আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, খুরশীদ আলম নামের এক ভুক্তভোগী বাদী হয়ে সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলাটি করেন। এজাহারের তথ্য অনুযায়ী, শফিক নজরুল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ‘LAW DOCTOR’ নামে একটি পেজ পরিচালনা করে বার কাউন্সিল পরীক্ষার্থীদের টার্গেট করতেন। ওই পেজে ‘১০০টি এমসিকিউ পড়লেই নিশ্চিত পাস’— এমন লোভনীয় ও বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন প্রচার করে পরীক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করা হতো।
অভিযোগ রয়েছে, এক পরীক্ষার্থী ওই বিজ্ঞাপন দেখে যোগাযোগ করলে শফিক নজরুল নিজেকে প্রভাবশালী মহলের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দেন। বিশ্বাস অর্জনের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের পরিবারের সদস্যদের ছবি ব্যবহার করে তাঁদের সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক রয়েছে বলে দাবি করেন।
পরবর্তীতে বার কাউন্সিল পরীক্ষায় পাস করিয়ে দেওয়ার নিশ্চয়তা দিয়ে ওই ভুক্তভোগীর কাছে আট লাখ টাকা দাবি করা হয়। ডাচ-বাংলা ব্যাংক ও নগদ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ধাপে ধাপে অন্তত চার লাখ পাঁচ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন শফিক নজরুল। কিন্তু গত ১২ জুন অনুষ্ঠিত বার কাউন্সিলের এমসিকিউ পরীক্ষায় ওই পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হলে প্রতারণার বিষয়টি প্রকাশ পায়।
এ ঘটনায় শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ শফিক নজরুলকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে। পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়, আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধার, ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ এবং এই চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত করতে আসামিকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এদিকে, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের অতিরিক্ত পরিচালক মো. আল এমরান বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় আরেকটি মামলা দায়ের করেন। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে একই আদালত শফিক নজরুলকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। এই মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, শেরেবাংলা নগরের একটি ফ্ল্যাটে ‘Adomma Coaching Center’ পরিচালনার আড়ালে ‘ল ডক্টর’ পেজ ব্যবহার করে বার কাউন্সিল পরীক্ষার বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করে আসছিলেন ওই আইনজীবী।
এআইএল/সকালবেলা
|