রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রকাশ: বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০২:২০ অপরাহ্ণ
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশে দীর্ঘদিনের আশ্রিত ১৩ লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সার্বিক উপস্থিতির কারণে দেশের অর্থনীতি, সমাজ, জনমিতি ও পরিবেশের ওপর সৃষ্ট মারাত্মক চাপের চিত্র তুলে ধরে এই সংকট সমাধানে চীনের কার্যকর সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ বুধবার (৪ নভেম্বর ২০২৬) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের নেতৃত্বে একটি চীনা প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। সাক্ষাৎকালে লিউ হাইশিং চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রিমিয়ার লি ছিয়াংয়ের বিশেষ শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছে দেন।

বৈঠকে লিউ হাইশিং বলেন, "প্রধানমন্ত্রীর বেইজিং সফরের সময় দুই দেশের ভবিষ্যৎ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের এক নতুন যুগের সূচনা নিয়ে যৌথ ঘোষণা জারি করা হয়েছে। সেই ঘোষণার আলোকে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো আরও বিস্তৃত করা হবে।" বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় চীনের সমর্থন এবং অঙ্গীকার অপরিবর্তিত থাকবে বলেও দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘদিনের আশ্রিত বিশাল রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর কারণে সৃষ্ট বহুমাত্রিক সংকটের কথা উল্লেখ করে বলেন, এ সংকট নিরসনে চীনের কূটনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জবাবে লিউ হাইশিং জানান, চীন এই সংকটের গুরুত্ব বোঝে এবং তিনি সরাসরি প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের কাছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্বেগের বার্তা পৌঁছে দেবেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও স্মরণ করেন যে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে বাংলাদেশ-চীন সুদৃঢ় কূটনৈতিক সম্পর্কের মজবুত ভিত্তি রচিত হয়েছিল। সেই সময়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের চীন সফরের পর বাংলাদেশে খাল খনন কর্মসূচি ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকারও সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের বিশাল উদ্যোগ নিয়েছে, যা কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও পরিবেশ ভারসাম্য রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখবে।

দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি ও বিএনপির মধ্যে দলীয় পর্যায়ের সম্পর্ককে আরও বহুমাত্রিক করার বিষয়ে আগ্রহ দেখায় সিপিসি। একই সাথে বিএনপির মহাসচিবের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলকে বেইজিং সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান লিউ হাইশিং। এছাড়া বৈঠকে বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর প্রতিষ্ঠা এবং রিজিওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপে (আরসিইপি) বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে চীনের পূর্ণ সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, ভাইস চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। চীনা পক্ষে ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ড. লিউ ইউয়িন ও সিপিসির দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক পেং শিউবিনসহ অন্য কর্মকর্তারা।

সকালবেলা / নুসরাত