শেরপুরে অজ্ঞাত লাশের রহস্য উদঘাটন, দম্পতিসহ গ্রেপ্তার ৩

প্রকাশ: রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:১৩ অপরাহ্ণ
শেরপুরে অজ্ঞাত লাশের রহস্য উদঘাটন, দম্পতিসহ গ্রেপ্তার ৩

পুলক রায়, শেরপুর: শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহের রহস্য মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় এক দম্পতিসহ মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গত ১ এপ্রিল সকালে শ্রীবরদী থানা পুলিশ একটি অর্ধগলিত নারীর মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহের পরিচয় না পাওয়ায় পিবিআই জামালপুর জেলার একটি বিশেষ দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে। দ্রুতই নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়—তার নাম ডলি আক্তার, তিনি নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা এবং মোঃ আলাল মিয়ার মেয়ে। এই ঘটনায় নিহতের ভাই শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে শ্রীবরদী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পিবিআই সূত্র জানায়, একটি সন্দেহভাজন পিকআপ গাড়ির সূত্র ধরে ৩ এপ্রিল অভিযান চালিয়ে প্রথমে চালক আশরাফ আলীকে আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৪ এপ্রিল ভোরে শেরপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভাতশালা এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে নিয়ামুর নাহিদ (২৬) ও তার স্ত্রী রিক্তা মনিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানান, নিহত ডলি আক্তারের সঙ্গে তার দ্বিতীয় স্বামী বিল্লাল হোসেনের দাম্পত্য কলহ চলছিল। এই সুযোগে ৩০ মার্চ রাতে নিয়ামুর নাহিদ তাকে নিজের বাসায় ডেকে নেন। সেখানে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ডলিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। হত্যার পর নাহিদ তার স্ত্রীর সহায়তায় মরদেহটি একটি ট্রাংকের ভেতর ভরে পিকআপ যোগে শ্রীবরদী এলাকায় ফেলে দিয়ে গাজীপুরে পালিয়ে যান।

পিবিআই জামালপুর জেলার পুলিশ সুপার পঙ্কজ দত্ত জানান, "তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার ও দ্রুত পদক্ষেপের কারণে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই আমরা এই খুনের রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছি। আসামিরা আদালতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।"

এই দ্রুত তদন্ত ও আসামি গ্রেপ্তারে নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

এ.আই.এল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন