সীমান্তে বিস্ফোরণে পা হারালেন রোহিঙ্গা যুবক
ইমতিয়াজ মাহমুদ ইমন, কক্সবাজার: কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় আবারও স্থলমাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পালংখালী সীমান্তের বিপরীতে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চাকমাকাটা এলাকায় বিস্ফোরণে মো. ইউনুছ (২৫) নামে এক রোহিঙ্গা যুবকের ডান পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এর আগে গত শুক্রবার (১০ এপ্রিল) একই এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে আরও এক যুবক পা হারান।
আহত ইউনুছ উখিয়া ক্যাম্প-১৯-এর বাসিন্দা। বিস্ফোরণের শব্দ শুনে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে এবং পরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) শান্তনু ঘোষ জানান, ইউনুছের ডান পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় তাঁর অবস্থা বর্তমানে আশঙ্কাজনক।
গত ১০ এপ্রিল মাছ ধরতে গিয়ে মাইন বিস্ফোরণের শিকার হন ক্যাম্প-১০-এর রোহিঙ্গা যুবক মো. সাদেক। এছাড়া গত ২৯ মার্চ একই এলাকায় আবদুল হাকিম নামে এক কিশোরের পা বিচ্ছিন্ন হয়। ৫ দিনের ব্যবধানে দুজন এবং পাক্ষিক ব্যবধানে তিনজন পঙ্গুত্ব বরণ করায় সীমান্ত এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
রোহিঙ্গা নেতা শামসুল আলম জানান, রেশন কমে যাওয়ায় এবং অর্থসংকটের কারণে অনেক রোহিঙ্গা পরিবার ঝুঁকি নিয়ে নাফ নদীতে মাছ ধরা বা ওপার থেকে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহের চেষ্টা করে। এই জীবনসংগ্রামই তাদের মাইন বিস্ফোরণের মতো ভয়াবহ বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, রাখাইন রাজ্যে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতে সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ) এসব মাইন পুঁতে রেখেছে।
বিজিবি উখিয়া-৬৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম বলেন, "সীমান্তের শূন্যরেখার ওপারে মিয়ানমার অংশে মাইনগুলো পুঁতে রাখা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের সীমান্তে না যাওয়ার জন্য আমরা নিয়মিত মাইকিং ও সচেতনতামূলক কাজ করছি। কোনো রোহিঙ্গারই এখন সীমান্ত পার হওয়া বা ওপারে যাওয়ার কথা নয়।"
নাফ নদীর শূন্যরেখা, জাইল্যাখালীর চর ও নারিকেল বাগান এলাকায় ব্যাপকভাবে মাইন ছড়িয়ে থাকায় সীমান্ত অঞ্চলের বাসিন্দা ও রোহিঙ্গাদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। স্থানীয়রা বলছেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এই প্রাণহানি ও পঙ্গুত্বের মিছিল আরও দীর্ঘ হতে পারে।
এ.আই.এল/সকালবেলা
|