হান্নান মাসউদের বক্তব্য ঘিরে নোয়াখালীর হাতিয়ায় বিএনপি-এনসিপি সংঘর্ষ, আহত ৮

প্রকাশ: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৫ অপরাহ্ণ
হান্নান মাসউদের বক্তব্য ঘিরে নোয়াখালীর হাতিয়ায় বিএনপি-এনসিপি সংঘর্ষ, আহত ৮
নোয়াখালীর হাতিয়ায় বিএনপি ও এনসিপি সংঘর্ষের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী (ফাইল ছবি)।

নিজস্ব প্রতিবেদক: নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় সংসদ সদস্য (এমপি) আবদুল হান্নান মাসউদের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বক্তব্য ও উসকানিমূলক মন্তব্যের প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত আটজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে হাতিয়া উপজেলা পরিষদ চত্বর ও এর মূল গেটের সামনে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদ ওইদিন দুপুরে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাসিক সভায় যোগ দেওয়ার জন্য উপজেলা পরিষদ ভবনে প্রবেশ করছিলেন। এর আগেই বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠন ছাত্রদল এবং যুবদলের নেতাকর্মীরা এমপি হান্নানের সাম্প্রতিক বিভিন্ন বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাতে উপজেলা গেটে অবস্থান নেন।

বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, সম্প্রতি জাতীয় সংসদসহ বিভিন্ন জনসভায় সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদ সুনির্দিষ্টভাবে বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়ে নানা মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করে আসছেন। এরই জেরে হান্নান মাসউদ উপজেলা পরিষদ গেটে পৌঁছালে সেখানে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে এনসিপির নেতাকর্মীদের তীব্র কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। মুহূর্তেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও ধাওয়াধাক্কি শুরু হয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত আটজন সামান্য ও গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন জানান, “সংসদ সদস্য আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভার দিকে যাওয়ার সময় গেটে দুই পক্ষের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও কথা-কাটাকাটি হয়েছে। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিবেশ শান্ত করে এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনে।”

ঘটনার বিষয়ে হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল বলেন, “উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের উপস্থিতির কারণে পরিষদের গেটে কিছু উচ্চবাচ্য ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছিল। পরে প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় সংসদ সদস্যকে নিরাপদে সভাকক্ষে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।”

এই সংঘর্ষের দায় একে অপরের ঘাড়েই চাপাচ্ছে উভয় দল। এনসিপির উপজেলা আহ্বায়ক শামসুদ্দিন তিবরিজ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “এটি একটি সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। বিনা উসকানিতে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে ও নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে।”

অন্যদিকে, হাতিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিরুল হায়দার চৌধুরী দাবি করে বলেন, “এমপি হান্নান মাসউদ প্রতিনিয়ত বিভিন্ন স্থানে বিএনপিকে জড়িয়ে উসকানিমূলক ও মিথ্যা বক্তব্য দিয়ে আসছিলেন। তাঁর এই উগ্র রাজনৈতিক আচরণের কারণেই ক্ষুব্ধ সাধারণ নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ জানিয়েছেন, এখানে দলের কোনো পূর্বনির্ধারিত বা কেন্দ্রীয় নির্দেশনা ছিল না।”

ঘটনার শিকার সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ গণমাধ্যমকে জানান, তিনি নির্ধারিত উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকে যোগ দিতে যাওয়ার সময় বিএনপির কিছু ক্যাডার পরিকল্পিতভাবে হট্টগোল শুরু করে এবং অতর্কিত বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে তাদের হাতাহাতির সময় একটি ঘুসি তাঁর ঘাড়ে এসে লাগে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বর্তমানে স্থানীয় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন