ভাই হত্যার অভিযোগে আপন ভাইবোন আটক

প্রকাশ: বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪৮ অপরাহ্ণ
ভাই হত্যার অভিযোগে আপন ভাইবোন আটক

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারে চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস (ক্লু-বিহীন) আব্দুল মতিন হত্যা মামলার রহস্য মাত্র দুই দিনের মধ্যে উদ্ঘাটন করেছে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ। জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে আপন ভাইকে অপহরণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করার ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ তিন ভাই, এক বোন ও ভাবিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আজ বুধবার (১ জুলাই) গ্রেপ্তারকৃত ৫ আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—নিহত আব্দুল মতিনের আপন ভাই আব্দুল মজিদ (৫০), আব্দুল আজিদ (৪৩), আব্দুল রউফ (৫৬), বোন আয়েশা আক্তার রত্না (৩৭) এবং ভাই আব্দুল মজিদের স্ত্রী তুলি বেগম (৪০)।

পুলিশের তদন্তে জানা যায়, নিহত আব্দুল মতিনের সঙ্গে তাঁর ভাই ও বোনদের দীর্ঘদিন ধরে পৈতৃক জমিজমা নিয়ে বিরোধ এবং আদালতে মামলা-মোকদ্দমা চলছিল। এই বিরোধের জেরে আব্দুল মতিনকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করেন তাঁর আপন ভাই আব্দুল মজিদ। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তিনি মোটা অঙ্কের বিনিময়ে একটি ভাড়াটে খুনি চক্রও নিয়োগ করেন।

গত ২৮ জুন আব্দুল মতিনের আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার তারিখ ছিল, যা মজিদ আগে থেকেই জানতেন। ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আব্দুল মতিন আদালতের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হলে ওত পেতে থাকা ঘাতক চক্রটি তাঁকে অনুসরণ করতে থাকে। পরে একটি নির্জন স্থানে পৌঁছালে জোরপূর্বক তাঁকে গাড়িতে তুলে হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ড শেষে লাশটি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার সুন্দর মিয়ার পুকুরের দক্ষিণ পাশের ঢালের পাকা সড়কে ফেলে রেখে খুনিরা পালিয়ে যায়।

২৮ জুন সন্ধ্যা পেরিয়ে গেলেও আব্দুল মতিন বাড়িতে ফিরে না আসায় তাঁর স্ত্রী লাকি আক্তার শেফা মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে তা বন্ধ পান। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে স্থানীয়দের মাধ্যমে সড়কের পাশে একটি লাশ পড়ে থাকার খবর পান তিনি। ঘটনাস্থলে গিয়ে হাত-পা বাঁধা ও গলায় শার্ট প্যাঁচানো অবস্থায় স্বামীর মরদেহ শনাক্ত করেন শেফা। মরদেহের মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ভারী বস্তু ও আঘাতের চিহ্ন ছিল। খবর পেয়ে ওইদিন রাত ১১টা ৪০ মিনিটে সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

ঘটনাটি কোনো ক্লু না থাকায় পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলামের নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) নোবেল চাকমার তত্ত্বাবধানে মাঠে নামে পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল খয়েরের নেতৃত্বে সদর মডেল থানার একটি বিশেষ আভিধানিক দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে। তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত ৩০ জুন (মঙ্গলবার) সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় রাতভর ঝটিকা অভিযান চালিয়ে নিহতের তিন ভাই, বোন ও ভাবিসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় থানায় একটি সুনির্দিষ্ট হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। আমরা দ্রুততম সময়ে তদন্ত করে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারীসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে আজ আদালতে সোপর্দ করেছি। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ভাড়াটে খুনি ও অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।"

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন