প্রতিটি সদর হাসপাতালে আইসিইউ স্থাপন করতে হবে: ডা. জোবাইদা

প্রকাশ: বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৩ অপরাহ্ণ
প্রতিটি সদর হাসপাতালে আইসিইউ স্থাপন করতে হবে: ডা. জোবাইদা

স্টাফ রিপোর্টার: দেশের শহর ও গ্রামীণ অঞ্চলের চিকিৎসাসেবার বৈষম্য দূর করতে প্রতিটি জেলা ও সদর হাসপাতালে জরুরি ভিত্তিতে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) স্থাপনের জোর আহ্বান জানিয়েছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) সহসভাপতি ডা. জোবাইদা রহমান।

তিনি বলেন, “দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ গ্রামে বাস করলেও জীবনরক্ষাকারী আইসিইউ সুবিধার প্রায় ৯০ শতাংশই রাজধানী ও বড় শহরগুলোতে কেন্দ্রীভূত। এই বৈষম্য দূর করে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রত্যন্ত অঞ্চলে সম্প্রসারণ করতে হবে।”

আজ বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাংলাদেশ সোসাইটি অব ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিনের (বিএসসিসিএম) জাতীয় সম্মেলন-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দেশের স্বাস্থ্য খাতের আইসিইউ সংকটের চিত্র তুলে ধরে ডা. জোবাইদা রহমান বলেন, “বর্তমানে দেশে প্রতি এক লাখ মানুষের বিপরীতে আইসিইউ শয্যা রয়েছে মাত্র ১ দশমিক ৭টি। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৩৮টি জেলাতেই কোনো ধরনের আইসিইউ সুবিধা নেই। এর ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের নবজাতক, গর্ভবতী নারী, নিউমোনিয়া বা স্ট্রোকে আক্রান্ত বয়োবৃদ্ধ এবং সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত রোগীরা সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেয়ে অকালমৃত্যুর শিকার হচ্ছেন।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশে শুধু শয্যারই ঘাটতি নেই; বরং আইসিইউ পরিচালনার জন্য দক্ষ অ্যানেসথেসিওলজিস্ট, হৃদরোগ ও স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, প্রশিক্ষিত নার্স এবং আধুনিক বিশেষায়িত যন্ত্রপাতিরও তীব্র সংকট রয়েছে।

গুরুতর অসুস্থ রোগীদের জন্য যাতায়াত ব্যবস্থাকে বড় বাধা উল্লেখ করে ডা. জোবাইদা বলেন, প্রত্যন্ত গ্রামে তাৎক্ষণিকভাবে আইসিইউ স্থাপন করা সম্ভব না হলেও লাইফ-সাপোর্ট বা আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন বিশেষ অ্যাম্বুলেন্সের সংখ্যা বাড়াতে হবে। এর মাধ্যমে সংকটাপন্ন রোগীদের দ্রুত জেলা হাসপাতালে স্থানান্তর করা সম্ভব। সীমিত সক্ষমতার মধ্যেও চিকিৎসকদের নিরলস প্রচেষ্টার প্রশংসা করে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং স্বাস্থ্য সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী।

এছাড়া বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী, বিএসসিসিএম-এর সভাপতি অধ্যাপক ডা. আরিফ আহসান, সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. জাফর ইকবাল, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশীদ ও সাধারণ সম্পাদক ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিলসহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন