কর্ণফুলী সেতু চেকপোস্টে পুলিশের দ্বিমুখী তল্লাশি
মোহাম্মদ সোহেল রানা, চট্টগ্রাম: আইনের চোখে সবাই সমান—সংবিধানের এই চিরন্তন বাণী বাস্তব চিত্রের কাছে যেন সম্পূর্ণ অমূলক। চট্টগ্রাম নগরীর প্রবেশদ্বার বাকলিয়া থানাধীন শাহ আমানত (কর্ণফুলী) সেতু মুখের পুলিশ চেকপোস্টে প্রতিদিনের দৃশ্য দেখলে যে কারও মনে এই প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক।
গত দুই সপ্তাহ ধরে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এক বৈষম্যমূলক চিত্র। কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা দূরপাল্লার এসি, নন-এসি ও স্লিপার বাসের সাধারণ যাত্রীদের একের পর এক নামিয়ে কড়া তল্লাশি চালাচ্ছেন দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা। অথচ ঠিক বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, পাজেরো, নোয়া কিংবা পুলিশের বিশেষ সিগন্যাল লাইট ও ভিআইপি স্টিকার ব্যবহার করা বিলাসবহুল গাড়িগুলোর ক্ষেত্রে। কোনো প্রকার সিগন্যাল না দিয়েই এসব যানবাহনকে নির্বিঘ্নে পার হয়ে যেতে দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে চেকপোস্টে দায়িত্বরত এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, প্রশাসনিক ব্যবস্থার ভেতরের চরম ভীতির কথা। তিনি বলেন, "বিলাসবহুল গাড়িগুলোতে প্রায়শই প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কিংবা প্রভাবশালী ব্যক্তি ও তাঁদের স্বজনরা থাকেন। তল্লাশির জন্য এসব গাড়ি থামানো হলে তাৎক্ষণিকভাবে উপর মহল থেকে মানসিক চাপ, বদলি বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার ভয় দেখানো হয়। ফলে প্রশাসনিক হয়রানির ভয়ে কোনো সদস্যই এসব গাড়িতে হাত দেওয়ার সাহস পান না।"
অথচ অনুসন্ধানে জানা যায়, ভিআইপি বা ব্যক্তিগত গাড়িগুলোতে থাকা একশ্রেণির নারীকে ব্যবহার করেই মাদকের বড় বড় চালান পাচার হচ্ছে। সাধারণ বাসে থাকা নারীদের ব্যাগ ও শরীর চেক করা হলেও, ব্যক্তিগত গাড়িতে থাকা নারীদের ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা নিষ্ক্রিয়। পাচারকারীরা এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কোটি টাকার ইয়াবার চালান রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে দিচ্ছে।
পুলিশের এই দ্বিমুখী আচরণে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন দূরপাল্লার বাসযাত্রীরা। তাঁদের অভিযোগ, কক্সবাজার থেকে ঢাকা পৌঁছানো পর্যন্ত অন্তত ৭-৮টি জায়গায় সাধারণ মানুষকে থামিয়ে হয়রানি করা হলেও প্রভাবশালী ও কোটি টাকার বাহনের চালকদের কোথাও কোনো বাধা দেওয়া হয় না।
মাদকমুক্ত দেশ গড়তে এবং আইনের নজিরবিহীন বৈষম্য দূর করতে শাহ আমানত সেতু চেকপোস্টসহ প্রতিটি জায়গায় সব ধরনের যানবাহনে নিরপেক্ষ তল্লাশি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ যাত্রীরা।
এআইএল/সকালবেলা
|