পেকুয়ায় সন্ত্রাসীদের কিরিচ হামলায় বৃদ্ধ খুন
উপজেলা প্রতিনিধি, পেকুয়া (কক্সবাজার): কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় বসতঘরে ঢিল ছোড়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে ধারালো কিরিচের আঘাতে আবু তাহের (৬৫) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন।
গতকাল শুক্রবার (২৬ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের হারুন মাতবরপাড়া এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত আবু তাহের ওই এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে আবু তাহেরের বসতঘরে পরপর দুটি ঢিল ছোড়া হয়। বিকট শব্দ শুনে আবু তাহের ও তাঁর ছেলে মোহাম্মদ তারেক ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। এ সময় প্রতিবেশী নুর হোছেনের ছেলে মোহাম্মদ সিফাতকে (২৭) বাড়ির পাশে দেখতে পেয়ে ঢিল ছোড়ার কারণ জানতে চান তাঁরা। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে তীব্র কথা-কাটাকাটি শুরু হয়, যা একপর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। হাতাহাতির একপর্যায়ে সিফাত ঘর থেকে ধারালো কিরিচ এনে আবু তাহেরের বাঁ হাতে ও শরীরে সজোরে কোপ দেন। এতে তিনি রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে দ্রুত পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক মাস আগে এক নারীকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে সিফাতের বিরুদ্ধে এলাকায় একটি সামাজিক সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই সালিশে আবু তাহেরের ভূমিকার কারণে সিফাতকে মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পেতে হয়। এরপর থেকেই আবু তাহেরের পরিবারের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন সিফাত। সেই পূর্ববিরোধ ও আক্রোশের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিহতের ছেলে মোহাম্মদ তারেক অভিযোগ করেন, “হামলার সময় সিফাতের সঙ্গে আরও কয়েকজন সহযোগী ছিল। তারা পরিকল্পিতভাবে বাবার ওপর হামলা চালিয়ে সিফাতকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।”
হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই অভিযুক্ত সিফাত ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা এলাকা ছেড়ে পলাতক রয়েছেন।
পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “প্রাথমিক তদন্তে পূর্ববিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মূল অভিযুক্ত সিফাতসহ জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে। এই ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।”
এআইএল/সকালবেলা
|