বোয়ালমারীতে সাপের কামড়ে স্কুলছাত্রের মৃত্যু

প্রকাশ: রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০৪:২৫ অপরাহ্ণ
বোয়ালমারীতে সাপের কামড়ে স্কুলছাত্রের মৃত্যু

উপজেলা প্রতিনিধি, বোয়ালমারী (ফরিদপুর): ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে বিষাক্ত সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাফসান শেখ (১৬) নামে নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রের করুণ মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতাল বা আধুনিক চিকিৎসার পরিবর্তে ওঝার কাছে নিয়ে দীর্ঘ সময় নষ্ট করায় তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। 

গতকাল শনিবার (২৭ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার গুনবহা ইউনিয়নের অমৃতনগর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত রাফসান শেখ অমৃতনগর গ্রামের লিটন শেখের ছেলে এবং বোয়ালমারী জর্জ একাডেমির নবম শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল। তার এমন অকালমৃত্যুতে পরিবার, সহপাঠী ও পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাইরের টয়লেটে যায় রাফসান। পরে টিউবওয়েলে হাত-পা ধুয়ে ঘরে ঢোকার সময় একটি বিষাক্ত সাপ তার পায়ে কামড় দেয়। স্বজনেরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে হাসপাতালে না নিয়ে প্রথমে গোহাইলবাড়ীর এক ওঝার কাছে নিয়ে যান। সেখান থেকে ব্যর্থ হয়ে পরে সোতাশীর আরেক ওঝার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কয়েকজন কথিত ফকির ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে বিষ নামানোর দাবি করলে আশ্বস্ত হয়ে রাফসানকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনে পরিবার।

বাড়ি ফেরার পর প্রায় সাত থেকে আট ঘণ্টা কেটে গেলে রাফসানের শরীরে তীব্র জ্বালাপোড়া ও শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। অবস্থার মারাত্মক অবনতি দেখে পরিবারের লোকজন রবিবার ভোরে তাকে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ ভোরে তার মৃত্যু হয়।

নিহতের নানা জাহাঙ্গীর হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সাপে কাটার পর ওঝাদের পেছনেই গুরুত্বপূর্ণ সাত-আট ঘণ্টা কেটে যায়। শেষ মুহূর্তে হাসপাতালে নিলেও ওকে বাঁচানো গেল না। আমরা চাই, প্রতিটি হাসপাতালে যেন পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম ও দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা সবসময় নিশ্চিত থাকে, যাতে আর কোনো মায়ের বুক এভাবে খালি না হয়।”

এ বিষয়ে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাজমুল হাসান বলেন, “আমাদের বোয়ালমারী হাসপাতালেই বর্তমানে ৪৫টি অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ওই রোগীকে দংশনের প্রায় ৮ ঘণ্টা পর আমাদের কাছে আনা হয়। ততক্ষণে বিষ পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ায় তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে ওঠে। আমরা প্রাথমিক ব্যবস্থা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠাই।”

তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “সাপে কামড় দিলে ওঝা, ঝাড়ফুঁক বা অন্য কোনো কুসংস্কারে এক মুহূর্তও সময় নষ্ট করা যাবে না। একমাত্র বৈজ্ঞানিক চিকিৎসাই রোগীকে বাঁচাতে পারে। তাই দংশনের পরপরই রোগীকে সরাসরি সরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে।”

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন