পার্কে ধর্ষণের পর বিয়েতে অস্বীকৃতি, কিশোরীর আত্মহত্যা
মোঃ সাকের খান (মদন, নেত্রকোনা): নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় মিনি পার্কে ঘুরতে নিয়ে গিয়ে শোভা আক্তার (১৩) নামের এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। পরবর্তীতে ওই কিশোরী বিয়ের প্রস্তাব দিলে তা প্রত্যাখ্যান করে অভিযুক্ত তরুণ।
এই ক্ষোভে ও অভিমানে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) আনুমানিক সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার নায়েকপুর পশ্চিমপাড়ায় নিজ ঘরে রশিতে পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে শোভা। পুলিশ খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নায়েকপুর পশ্চিমপাড়ার আলীম উদ্দিনের ছেলে হাসান (২০) প্রতিবেশী কিশোরী শোভা আক্তারের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। এর সূত্র ধরে গত রোববার পাশের কেন্দুয়া উপজেলার তাম্বুলিপাড়ার একটি মিনি পার্কে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে ঘুরতে যায় তারা। সেখানে হাসান তাকে ধর্ষণ করে বলে পরিবারের অভিযোগ। ঘটনার পর কিশোরী তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে হাসান ক্ষিপ্ত হয়। সে মেয়েটিকে গালমন্দ করার পাশাপাশি বিয়ের বিনিময়ে উল্টো ২০ হাজার টাকা দাবি করে।
বিষয়টি মানতে না পেরে কিশোরী তার পরিবারকে বিস্তারিত জানায়। মঙ্গলবার সকালে মেয়েটির বাবা আব্দুল খালেক ঘটনাটি স্থানীয় মুরুব্বিদের জানাতে এবং বিচারের জন্য ঘর থেকে বের হন। এই সুযোগে নিজ ঘরের ধর্নার সঙ্গে রশি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে মেয়েটি।
নিহত কিশোরীর বাবা আব্দুল খালেক অভিযোগ করে বলেন, “আমার মেয়েকে ভুল বুঝিয়ে ঘুরতে নিয়ে গিয়ে হাসান তার সর্বনাশ করেছে। সকালে আমি বিচারের জন্য কয়েকজনের কাছে গিয়েছিলাম, এসে দেখি মেয়ে আর বেঁচে নেই। হাসানের ফোনে সব রেকর্ড ছিল সে কি করেছে। হাসানই আমার মেয়েকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে, আমি এর কঠিন বিচার চাই।”
ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত হাসানের মা হাছনা আক্তার বলেন, “রাতে ঘটনাটি শুনেছি। আত্মহত্যা না করলে আমি নিজে থেকে ছেলেটির সঙ্গে মেয়েটির বিয়ে দিতাম।” তবে ছেলে বর্তমানে কোথায় আছে—সে বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেননি তিনি।
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন করিম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করেছে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। ধর্ষণের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন আসার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এআইএল/সকালবেলা