গুলেরের কনুইয়ের ফাউল নিয়ে বিতর্ক, যা বললেন হোসে মরিনহো

প্রকাশ: সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২১ অপরাহ্ণ
গুলেরের কনুইয়ের ফাউল নিয়ে বিতর্ক, যা বললেন হোসে মরিনহো

অনলাইন ডেস্ক: স্প্যানিশ লা লিগায় সেভিয়ার বিরুদ্ধে চমৎকার গোল করে মাঠের পুরো আলো নিজের দিকে কাড়লেও, ম্যাচ শেষে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে রিয়ালের তুর্কি মিডফিল্ডার আর্দা গুলেরের কনুইয়ের এক বিতর্কিত ফাউল। এ নিয়ে তীব্র গুঞ্জন তৈরি হলেও রিয়াল মাদ্রিদের পর্তুগিজ কোচ হোসে মরিনহো এতে বিতর্কের বিন্দুমাত্র সুযোগ দেখছেন না।

সান্তিয়াগো বার্নাবেউতে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে সেভিয়ার বিপক্ষে ৪-১ গোলের বড় জয় তুলে নিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ, যেখানে জোড়া গোল করে জয়ের মূল নায়ক ছিলেন ক্লাবের সবচেয়ে বড় তারকা কিলিয়ান এমবাপে।

ম্যাচের ২৫ মিনিটের মাথায় সেভিয়ার মিডফিল্ডার জেরার্ড 'পেকু' ফের্নান্দেসের সঙ্গে গুলেরের ওই কনুই দিয়ে মারাত্মক ধাক্কা লাগা সত্ত্বেও রেফারি লাল কার্ড না দেওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন সেভিয়ার ম্যানেজার লুইস গার্সিয়া প্লাসা। তাঁর মতে, রেফারির এই চরম ভুলের কারণে তাঁর দল দীর্ঘ সময় ১১ জনের বিপক্ষে ১০ জন নিয়ে খেলার সুবর্ণ সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

তবে এই ক্ষোভকে স্রেফ হারের অজুহাত হিসেবে উড়িয়ে দিয়েছেন মরিনহো। তিনি দাবি করেন, প্রতিপক্ষ কোচ মূলত ৪-১ গোলের বড় হারের লজ্জা ও নিজেদের ব্যর্থতা থেকে সমর্থকদের নজর অন্যদিকে ঘোরাতেই এই প্রসঙ্গ বারবার টেনে আনছেন।

ঘটনা প্রসঙ্গে ডাগআউটের অভিজ্ঞতা জানিয়ে মরিনহো বলেন, “অনেকে অনেক কিছু দাবি করলেও, কনুই দিয়ে আঘাতের কোনো ভিডিও বা ছবির প্রমাণ কেউ আমাকে দিতে পারেনি। আমি নিজে টিভি ফুটেজ দেখেছি, এমনকি আমার ট্যাকটিক্যাল ক্যামেরার দায়িত্বে থাকা স্টাফদের কাছেও পরিষ্কার দৃশ্য চেয়েছিলাম। কিন্তু লুইস (গার্সিয়া প্লাসা) যে ঘটনা নিয়ে এতটা ক্ষুব্ধ হয়েছেন, তার বিন্দুমাত্র কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ মেলেনি।”

অন্যদিকে, সেভিয়া কোচ গার্সিয়া প্লাসা জোর দিয়ে বলেন, “২৫ মিনিটের মাথা থেকেই আমাদের একজন বেশি খেলোয়াড় নিয়ে খেলা উচিত ছিল। পেকু অর্ধেকের বিরতিতে এসে বলছিল ‘ও আমাকে সরাসরি মেরেছে’। ওটা শতভাগ পরিষ্কার লাল কার্ড ছিল। রেফারির এমন সিদ্ধান্তের পর ম্যাচ নিয়ে কথা বলাটাই বৃথা।”

গুলের, কিলিয়ান এমবাপে ও ইয়ান দিওমান্দের দুর্দান্ত গোলে সেভিয়াকে হারালেও আগামী সপ্তাহের বহুল প্রতীক্ষিত ‘এল ক্লাসিকো’র আগে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার চেয়ে এখনও ৬ পয়েন্টে পিছিয়ে রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। ৯ ম্যাচে ২১ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার ৩ নম্বর স্থানে রয়েছে লস ব্লাঙ্কোসরা। অন্যদিকে সমান ম্যাচে ২৭ পয়েন্ট নিয়ে একচ্ছত্রভাবে শীর্ষে রয়েছে বার্সেলোনা।

বার্নাবেউতে পাওয়া এই জয়টি রিয়ালের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক সপ্তাহের সূচনা করল। আন্তর্জাতিক বিরতির পর টানা তিনটি ম্যাচে জয় পাওয়া রিয়াল এখন চ্যাম্পিয়ন্স লিগের হাইভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি হবে জার্মান ক্লাব আরবি লাইপজিগের। এরপরই তারা ক্যাম্প ন্যু-তে মুখোমুখি হবে মরশুমের প্রথম এল ক্লাসিকোয়।

চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার আগের দিনের ৫-২ ব্যবধানে রিয়াল বেতিসকে হারানোর বিতর্কিত ম্যাচ দেখা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মরিনহো হেসে বলেন, “সত্যি বলতে আমি ওই ম্যাচটি দেখতে পারিনি, কারণ তখন আমি বায়ার্ন মিউনিখ বনাম লাইপজিগের খেলা বিশ্লেষণ করছিলাম। পরে অবশ্য নানান গুঞ্জন শুনেছি, তবে এসব নিয়ে আমি আর অবাক হই না। স্প্যানিশ ফুটবলে এগুলো এখন প্রতিদিনের সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছে।”