‘১০০ ম্যাচ ছোঁয়ার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু সম্ভব মনে হচ্ছে না’: তালিয়াফিকো
ক্রীড়া ডেস্ক: টানা দ্বিতীয়বার ফুটবলের সবচেয়ে সম্মানজনক ট্রফি উঁচিয়ে ধরে ইতিহাস গড়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন লিওনেল মেসির মেসিনেতারা। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে স্পেনের কাছে পরাজিত হয়ে রানার্সআপ হওয়ায় আলবিসেলেস্তাদের পরপর দুই আসরে বিশ্বজয়ের অবিশ্বাস্য স্বপ্ন অপূর্ণ থেকে যায়।
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় যৌথভাবে আয়োজিত এই মেগা আসরের যবনিকাপাতের পর থেকেই আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে শুরু হয়েছে বিদায়ের সুর। অভিজ্ঞ সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দির অবসর ঘোষণার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার ও বিশ্বকাপ ফুটবল থেকে নিজের সম্ভাব্য বিদায় নিয়ে মুখ খুললেন ডিফেন্ডার নিকোলাস তালিয়াফিকো।
আগামী ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত ধার্য করা ফিফার আন্তর্জাতিক ম্যাচ উইন্ডোতে প্রীতি ম্যাচ খেলতে মাঠে নামবে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, যা মূলত ২০৩০ বিশ্বকাপকে লক্ষ্য রেখে জাতীয় দলের নতুন যাত্রাকে সূচনা করবে। অধিনায়ক লিওনেল মেসি তাঁর শেষ বিশ্বকাপ খেলে ফেললেও অবসর নিয়ে এখনও চূড়ান্ত অবস্থান স্পষ্ট করেননি।
তবে ৩৩ বছর বয়সী অভিজ্ঞ লেফটব্যাক তালিয়াফিকো ইঙ্গিত দিয়েছেন, বিশ্বমঞ্চের বিশ্বমঞ্চে ডিফেন্ডার হিসেবে তাকে আর হয়তো নীল-সাদা পোশাকে দেখা যাবে না।
স্ত্রী কারো ক্যালভানির সঙ্গে তাঁদের অফিসিয়াল 'টুইচ' চ্যানেলে সরাসরি আলাপকালে তালিয়াফিকো বলেন, “আমার মনে হয় এই বিশ্বকাপটিকে আমি অনেক বেশি আবেগ ও গুরুত্ব দিয়ে গ্রহণ করেছিলাম। এর অন্যতম মূল কারণ হয়তো মনে মনে আমি বুঝতে পেরেছিলাম এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে। শতভাগ নিশ্চিত করে না বললেও শরীরের ভাষা ও সামর্থ্য অনুযায়ী আমার মনে হয় এটাই শেষ। বর্তমান ফিটনেস বিচারে আরেকটি বিশ্বকাপ খেলে ফেলা হয়তো আর সম্ভব হবে না।”
বিশ্বকাপ ফুটবলের মঞ্চে আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের হয়ে সর্বমোট ১৭টি ম্যাচে অংশ নিয়েছেন তালিয়াফিকো। বিশ্বকাপের ম্যাচসংখ্যার দিক থেকে আকাশী-সাদা জার্সিতে তিনি সপ্তম সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা ফুটবলার। তাঁর ওপরে নাম রয়েছে কেবল লিওনেল মেসি, দিয়েগো ম্যারাডোনা, নিকোলাস ওতামেন্দি, হাভিয়ার মাসচেরানো, আনহেল ডি মারিয়া ও মারিও কেম্পেসের মতো কিংবদন্তিদের।
দেশের হয়ে এ পর্যন্ত মোট ৮৩টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে প্রতিনিধিত্ব করা এই বিশ্বস্ত ডিফেন্ডার সেঞ্চুরির মাইলফলক অর্জন নিয়ে বলেন, “আমার সবসময় ইচ্ছে ছিল দেশের হয়ে ১০০টি ম্যাচ খেলার সম্মান স্পর্শ করার। তবে সত্যি বলতে আমার মনে হয় না এখন আর তা সম্ভব হয়ে উঠবে।”
ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে রানার্সআপ হলেও শেষ চার বছরের অসামান্য অর্জনে গর্বিত এই আর্জেন্টাইন। তিনি যোগ করেন, “আমাদের কাছে ২০২২ সালের বিশ্বকাপ জয়ের সোনালী পদকটি আগেই সংগ্রহে ছিল, এবার আমরা দ্বিতীয় স্থান অর্জনের রৌপ্য পদক পেলাম। গত দুটি বিশ্বকাপে দল হিসেবে আমরা যা করে দেখিয়েছি, তা নিয়ে পুরো দেশের গর্ব করা উচিত। পর পর দুটি আসরে ফাইনাল খেলে দুটি মেডেল অর্জন করা মোটেই সহজ বিষয় নয়; ফুটবল ইতিহাসের নিরিখে এর সঠিক মূল্যায়ন হওয়া জরুরি।”
পরাজয়কে মেনে নেওয়ার স্পোর্টসম্যানশিপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমাদের এটাও শিখতে হবে কীভাবে মাথা উঁচিয়ে মাঠের হার মেনে নিতে হয়। এই ফাইনালে ওঠা প্রমাণ করে আমরা চূড়ান্ত সফল ছিলাম এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করেছি। ফুটবলে জয় ও পরাজয় থাকবেই, তবে এই স্মৃতি ও অর্জনগুলো স্থায়ীভাবে ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নেয়।”
বিশ্বকাপের প্রস্তুতি সম্পর্কে তালিয়াফিকো জানান, “বাইরে থেকে অনেকে ভাবেন বিশ্বকাপের আসল প্রস্তুতি বুঝি স্রেফ টুর্নামেন্টের আগের এক মাসের বিষয়। আসলে বিষয়টি তা নয়; এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার সূচনা হয় সাড়ে তিন বছর আগে থেকে—অর্থাৎ আগের বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর দিন থেকেই। শারীরিক সক্ষমতা ও মানসিক ভাব বজায় রাখা থেকে শুরু করে প্রতিটি বিষয়ের প্রস্তুতি এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতার ফল।”
|