জুনে দেশের রপ্তানি আয় বেড়েছে ২৫.৯১ শতাংশ

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৩ অপরাহ্ণ
জুনে দেশের রপ্তানি আয় বেড়েছে ২৫.৯১ শতাংশ

অর্থনীতি প্রতিবেদক: বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ মাস জুনে এসে দেশের রপ্তানি আয়ে বড় ধরনের সুসংবাদ মিলেছে। গত জুন মাসে দেশের রপ্তানি আয় আগের বছরের (২০২৫ সালের জুন) একই সময়ের তুলনায় রেকর্ড ২৫ দশমিক ৯১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সরকারি প্রতিষ্ঠান রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রকাশিত সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এই ইতিবাচক ও স্বস্তিদায়ক তথ্য জানা গেছে।

ইপিবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামগ্রিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে দেশের পণ্য রপ্তানি খাত আবার ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২০২৫ সালের জুন মাসে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের পরিমাণ ছিল ৩৩৩ কোটি ৭৯ লাখ মার্কিন ডলার। আর সদ্য সমাপ্ত ২০২৬ সালের জুন মাসে তা এক লাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২০ কোটি ২৬ লাখ মার্কিন ডলারে।

প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক খাত: বরাবরের মতোই দেশের রপ্তানি আয়ের মূল স্তম্ভ তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাত জুন মাসেও সিংহভাগ অবদান রেখেছে। জুন মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১ দশমিক ৫২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩৮ কোটি ৭৭ লাখ ডলারে; যা ২০২৫ সালের জুনে ছিল ২৭৮ কোটি ৭৭ লাখ ডলার।

তৈরি পোশাক খাতের এই আয়ের অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণে দেখা যায়, ওভেন খাতের চেয়ে নিটওয়্যার খাত থেকে বেশি আয় এসেছে। আলোচ্য মাসে নিটওয়্যার রপ্তানি থেকে এসেছে ১৮৪ কোটি ১ লাখ ডলার, যা বছর ব্যবধানে ১৯ দশমিক ৪৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে, ওভেন পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ১৫৪ কোটি ৭৫ লাখ ডলার, যা গত বছরের জুনের তুলনায় ২৪ দশমিক ০২ শতাংশ বেশি।

চমক দেখিয়েছে হোম টেক্সটাইল ও চামড়া খাত: ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি অন্যান্য অপ্রচলিত ও প্রধান খাতগুলোতেও রপ্তানি আয়ের বাম্পার প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চমক দেখিয়েছে হোম টেক্সটাইল খাত। জুন মাসে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় হোম টেক্সটাইলের রপ্তানি আয় ৫৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৫১ লাখ ডলারে।

পাশাপাশি, পরিবেশগত নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি আয় এক ধাক্কায় ৪৭ দশমিক ৬৮ শতাংশ বেড়েছে। জুন মাসে এই খাত থেকে দেশের আয় হয়েছে ১২ কোটি ৮৮ লাখ ডলার। এছাড়া প্রক্রিয়াজাত ও কাঁচা কৃষি পণ্যের রপ্তানি আয় ৪৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ কোটি ৯৬ লাখ ডলারে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল মাত্র ৬ কোটি ১০ লাখ ডলার।

পুরো অর্থবছরের সামগ্রিক চিত্র: মাসভিত্তিক হিসাবে জুনে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি হলেও, পুরো অর্থবছরের সার্বিক চিত্র কিছুটা মিশ্র। ইপিবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত ২০base-২৬ পুরো অর্থবছরে (জুলাই-জুন) তৈরি পোশাক, ওষুধ, প্লাস্টিক এবং চামড়াসহ মোট ২৭ ধরনের পণ্য বিশ্ববাজারে রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ।

এই পুরো ১২ মাসে বাংলাদেশ থেকে মোট ৪ হাজার ৮০০ কোটি ১৯ লাখ মার্কিন ডলারের পণ্য বিশ্ববাজারে রপ্তানি হয়েছে। তবে এই সামগ্রিক বার্ষিক আয়টি এর আগের অর্থবছরের (২০২৪-২৫) একই সময়ের তুলনায় শূন্য দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, পুরো অর্থবছরের হিসাবে সামান্য ঘাটতি থাকলেও, শেষ মাসে এসে প্রায় ২৬ শতাংশের এই বিশাল প্রবৃদ্ধি আগামী নতুন অর্থবছরের (২০২৬-২৭) জন্য একটি অত্যন্ত ইতিবাচক ও আশাব্যাঞ্জক ইঙ্গিত।

মন্তব্য করুন