ওমরাহ শেষে মক্কায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রবাসীর মৃত্যু

প্রকাশ: শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৮ অপরাহ্ণ
ওমরাহ শেষে মক্কায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রবাসীর মৃত্যু

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: সৌদি আরবের পবিত্র মক্কায় এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার হানিফ মিয়া (৩৫) নামের এক রেমিট্যান্স যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। 

গতকাল শুক্রবার (৩ জুলাই) দিবাগত রাতে মক্কার একটি সড়কে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত হানিফ আখাউড়া উপজেলার মণিঅন্দ ইউনিয়নের মাঝিগাছা গ্রামের হিরণ মিয়ার জ্যেষ্ঠ সন্তান। ওমরাহ পালন শেষে কর্মস্থলে ফেরার পথে এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা তাঁর জীবন কেড়ে নেয়।

হানিফের চাচা বেলাল হোসেন দীলিপ ও সৌদি প্রবাসী কিবরিয়া সোহেল জানান, বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে ওমরাহ হজ পালন শেষে হানিফ তাঁর তিন বাংলাদেশি সহকর্মীকে নিয়ে গাড়িতে করে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির গাড়ির সঙ্গে তাঁদের গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনার পর পর-ই গাড়ির ভেতরে থাকা হানিফসহ চারজনই আতঙ্কিত হয়ে গাড়ি থেকে নেমে সড়কের ওপর দাঁড়ান। ঠিক তখনই পেছন দিক থেকে আসা আরেকটি দ্রুতগতির গাড়ি তাঁদের দিকে ধেয়ে আসে।

এ সময় হানিফের সঙ্গে থাকা অন্য তিন সহকর্মী তাৎক্ষণিকভাবে সড়কের বিভাজকে (আইল্যান্ড) উঠে আত্মরক্ষা করতে পারলেও, হানিফ সড়কের ওপরই থেকে যান। পেছন থেকে আসা গাড়িটি তাঁকে সজোরে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, প্রায় sechs বছর আগে জীবিকার তাগিদে এবং পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন হানিফ। সেখানে তিনি মক্কার একটি স্থানীয় হাসপাতালে ক্লিনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত কয়েকদিন আগে দেশে তাঁর দাদি মারা যান। দাদির আত্মার মাগফিরাত কামনায় তাঁর নামে ওমরাহ আদায় করতে মক্কায় গিয়েছিলেন হানিফ। কিন্তু দাদির জন্য ওমরাহ শেষ করলেও নিজের কর্মস্থলে আর ফেরা হলো না তাঁর।

দুই ভাই ও চার বোনের মধ্যে হানিফ ছিলেন সবার বড়। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম বড় ছেলেকে হারিয়ে মাঝিগাছা গ্রামে এখন চলছে মাতম। স্বজনেরা জানান, আর মাত্র এক মাস পরেই তাঁর ছুটিতে দেশে ফেরার কথা ছিল। দেশে ফিরেই তাঁর বিয়ের পিঁড়িতে বসার সব প্রস্তুতি চলছিল এবং পরিবারের পক্ষ থেকে কনেও দেখা হচ্ছিল। কিন্তু আকস্মিক এই মৃত্যুতে বিয়ের আনন্দ এখন এক চরম বিষাদ ও গভীর শোকে পরিণত হয়েছে।

বর্তমানে হানিফের মরদেহ সৌদি আরবের একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। হানিফের কর্মস্থলের সুপারভাইজারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর জন্য সব ধরনের প্রশাসনিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। নিথর দেহটি যেন সরকারি ব্যবস্থাপনায় দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হয়, সেজন্য বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন শোকসন্তপ্ত পরিবার ও এলাকাবাসী।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন