ব্যাংকগুলোর শরিয়াহ কাউন্সিলকে শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে হবে: গভর্নর

প্রকাশ: শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৭ অপরাহ্ণ
ব্যাংকগুলোর শরিয়াহ কাউন্সিলকে শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে হবে: গভর্নর

অনলাইন ডেস্ক: দেশের অধিকাংশ আমানতকারীই ইসলামিক ব্যাংকিং সেবা গ্রহণের প্রতি বিশেষভাবে আগ্রহী। গ্রাহকদের এই আগ্রহ ও ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান রেখে ব্যাংকগুলোর শরিয়াহ কাউন্সিলকে আরো সক্রিয় ও অর্থপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নবনিযুক্ত গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।

আজ শনিবার (৪ জুলাই) বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ইসলামিক ব্যাংকস রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি ডিপার্টমেন্টের (আইবিআরপিডি) যৌথ উদ্যোগে বিআইবিএম ক্যাম্পাসে একটি বিশেষ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। ‘ইসলামিক ব্যাংকিং কার্যক্রমে পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানের শরিয়াহ-সংক্রান্ত ভূমিকা’ শীর্ষক এই কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এসব কথা বলেন।

গভর্নর তাঁর বক্তব্যে দেশের আর্থিক খাতের সংস্কারের ওপর জোর দিয়ে বলেন, “সমগ্র ব্যাংকিং খাতে জনগণের ক্ষুণ্ণ হওয়া আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে আমরা সুশাসনের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। একই সঙ্গে দেশের ব্যাংকিং খাতকে সব ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব ও অনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক দৃঢ়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”

তিনি দেশের ডিজিটাল লেনদেনের অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে আশা প্রকাশ করেন, আগামী বছরের মধ্যে ‘বাংলা কিউআর’ প্রযুক্তি সারা দেশে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করবে এবং প্রান্তিক পর্যায়ে লেনদেন সহজ করবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর অর্থনৈতিক আয়তনের তুলনায় বাংলাদেশে ব্যাংকের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। ব্যাংকের এই সংখ্যাকে যদি একটি যৌক্তিক ও পরিমিত পর্যায়ে নামিয়ে আনা যায়, তবে ব্যাংকগুলোর অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা, কেন্দ্রীয় তদারকি এবং সার্বিক কার্যকারিতা আরও উন্নত ও শক্তিশালী হবে।

অনুষ্ঠানের সভাপতি ও বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. মো. এজাজুল ইসলাম বলেন, দেশে ইসলামিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার পরিধি যেভাবে দ্রুত বাড়ছে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে কার্যকর শরিয়াহ গভর্নেন্স ও শরিয়াহ কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা এখন সময়ের অন্যতম বড় দাবি। শরিয়াহ নীতিমালার যথাযথ অনুসরণ কেবল ইসলামিক ব্যাংকের প্রতি সাধারণ গ্রাহকদের বিশ্বাসযোগ্যতাই বাড়ায় না, বরং এই খাতের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা, স্বচ্ছতা ও টেকসই উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তিনি আরও যোগ করেন, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ, প্রধান ব্যবস্থাপনা এবং শরিয়াহ সুপারভিশন কমিটির মধ্যে সুসমন্বয় বজায় রাখার মাধ্যমে বাংলাদেশেও আন্তর্জাতিক মানের ইসলামিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। এই লক্ষ্য অর্জনে বিআইবিএম নিরলসভাবে গবেষণা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে কাজ করছে।

দিনব্যাপী এই সেমিনারে তিনটি কারিগরি সেশন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের শরিয়াহ অ্যাডভাইজরি বোর্ডের সম্মানিত সদস্যরা বিষয়ভিত্তিক তথ্যবহুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এরপর উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে অংশগ্রহণকারীরা দেশের ইসলামিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার উন্নয়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকি জোরদার করার বিষয়ে নিজ নিজ গুরুত্বপূর্ণ মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরেন।

উক্ত কর্মশালায় ইসলামিক ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনাকারী দেশের বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যবৃন্দ, বাংলাদেশ ব্যাংক ও তফসিলি ব্যাংকগুলোর প্রতিনিধি, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক এবং শীর্ষস্থানীয় আর্থিক খাতের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন