পীরগাছায় পরকীয়ার জেরে সংঘর্ষে স্বামীর মৃত্যু, আটক ১

প্রকাশ: শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪৩ অপরাহ্ণ
পীরগাছায় পরকীয়ার জেরে সংঘর্ষে স্বামীর মৃত্যু, আটক ১

হাবিবুর রহমান হাবিব, পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি: রংপুরের পীরগাছায় পরকীয়া সম্পর্ক ও পারিবারিক বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনায় চান মিয়া (৫০) নামে এক তৈরি পোশাক কারখানার (গার্মেন্টস) শ্রমিকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত প্রতিবেশী মিথুন মিয়া (৩২)-কে আটক করেছে পুলিশ।

গতকাল শুক্রবার (৩ জুলাই) সন্ধ্যায় উপজেলার কান্দি ইউনিয়নের দিগটারী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত চান মিয়া ওই গ্রামের আজগার আলীর ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন। তাঁর পরিবারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চান মিয়া জীবিকার তাগিদে ঢাকায় থাকার সুযোগে তাঁর স্ত্রী মুক্তি বেগম প্রতিবেশী দুলু মিয়ার ছেলে মিথুন মিয়ার সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরিবারের অভিযোগ, এই পরকীয়ার জের ধরে প্রায় এক বছর আগে কৌশলে চান মিয়ার কষ্টার্জিত প্রায় আড়াই বিঘা জমি নিজের নামে লিখে নেন তাঁর স্ত্রী।

স্বজনরা জানান, গত ঈদুল আজহার কয়েক দিন আগে হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হন চান মিয়া। ঢাকায় প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসেন এবং শারীরিক অসুস্থতার কারণে আর ঢাকায় না গিয়ে বাড়িতেই স্থায়ীভাবে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। এর কিছুদিন পরই তাঁর স্ত্রী পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলেকে নিয়ে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় একটি ভাড়া বাসায় চলে যান। যাওয়ার সময় তিনি ঘরের সব আসবাবপত্র ও মালামালও সঙ্গে নিয়ে যান বলে অভিযোগ স্বজনদের।

পরিবারের দাবি, ঘটনার দিন চান মিয়া লোকমুখে জানতে পারেন যে, তাঁকে আইনিভাবে কোনো তালাক না দিয়েই তাঁর স্ত্রী মুক্তি বেগম গোপনে প্রতিবেশী মিথুন মিয়াকে বিয়ে করেছেন এবং সুন্দরগঞ্জে একসঙ্গে সংসার করছেন। এই বিষয়টি নিশ্চিত হতে শুক্রবার সন্ধ্যায় বাড়ির পাশের একটি ইটভাটার কাছে মিথুন মিয়াকে একা পেয়ে কথা বলতে যান চান মিয়া।

সেখানে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে দুই জনের মধ্যে তুমুল হাতাহাতি শুরু হয়। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে চান মিয়া হঠাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। চান মিয়াকে মাটিতে পড়ে যেতে দেখে ঘাতক মিথুন মিয়া দৌড়ে পাশের একটি বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেন। পরে স্থানীয়রা ধাওয়া করে তাঁকে আটক করে একটি ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখেন।

খবর পেয়ে পীরগাছা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে এবং উত্তেজিত জনতার হাত থেকে অভিযুক্ত মিথুন মিয়াকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। এ ঘটনায় নিহতের ভাগ্নে আলম মিয়া বাদী হয়ে পীরগাছা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আমিরুল ইসলাম জানান, "খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। স্থানীয়দের হাতে আটক অভিযুক্তকে পুলিশি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে পারিবারিক কলহ ও পরকীয়া সম্পর্কজনিত বিরোধের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।"

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন