কেরানীগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের সংঘর্ষে নিহত ১

প্রকাশ: শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৩ অপরাহ্ণ
কেরানীগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের সংঘর্ষে নিহত ১

স্টাফ রিপোর্টার: ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বের জেরে দুই কিশোর গ্যাংয়ের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই পক্ষের মারামারি থামাতে গিয়ে তাজের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নাঈম মোল্লা (১৬) নামে এক নিরীহ কিশোর নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় রবিন (১৬) ও তাজ (১৫) নামে আরও দুই কিশোর গুরুতর আহত হয়েছে।

আজ শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আবুল কালাম আজাদ। তিনি জানান, আহত রবিনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে, অপর আহত তাজকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার আগানগর ইউনিয়নের আমবাগিচা এলাকায় চলচ্চিত্র অভিনেতা ডিপজলের ভাড়াটে বাড়ির পাশের একটি গলিতে ‘তাজ’ ও ‘রবিন’ গ্রুপের সদস্যদের মধ্যে পূর্ববিরোধের জেরে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষই দেশীয় ধারালো অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে একে অপরের ওপর চড়াও হয়।

এ সময় ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় নাঈম মোল্লা নামের ওই কিশোর সংঘর্ষ থামাতে ও দুই পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু উত্তেজিত তাজের ধারালো অস্ত্রের নির্মম আঘাত এসে লাগে নাঈমের গায়ে। এতে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন। এরপরও দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল মারামারি চলতে থাকে। একপর্যায়ে নাঈম মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে আসেন। সাধারণ মানুষের উপস্থিতি টের পেয়ে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যায়।

পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত নাঈম ও রবিনকে উদ্ধার করে দ্রুত রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ শনিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নাঈমের মৃত্যু হয়। রবিনের অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অন্যদিকে আহত তাজকে তার সহযোগীরা মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি করালে পুলিশ তাকে সেখান থেকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

নিহত নাঈম মোল্লা মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার জাফরগঞ্জ গ্রামের মজিদ মোল্লার ছেলে। পরিবারসহ তিনি দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আমবাগিচা পানির ট্যাংকি এলাকায় বসবাস করতেন এবং একটি প্যান্ট তৈরির কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। আহত রবিন কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রামের রমজান আলীর ছেলে। সে পরিবারের সাথে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের গোলাম বাজার এলাকায় থাকত।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ঘটনার মূল বিরোধ ছিল তাজ ও রবিনের মধ্যে। গত রমজান মাসে তারাবির নামাজকে কেন্দ্র করে প্রথম তাদের মধ্যে হাতাহাতি ও বিরোধের সৃষ্টি হয়। কয়েকদিন আগে বুড়িগঙ্গা নদীতে নৌকায় যাতায়াতের সময় ‘সিনিয়র-জুনিয়র’ ইস্যুতে ফের তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। সেই বিরোধের জের ধরেই শুক্রবার রাতে দুই গ্রুপ মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়ায়। নিহত নাঈম কোনো পক্ষের সদস্য ছিলেন না, বরং গ্যাং কালচারের বলি হয়ে সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে অকালে প্রাণ হারালেন।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, "কিশোর গ্যাংয়ের সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।" তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন