দেশের ৬ শতাংশ মানুষ প্রতিবন্ধী: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

প্রকাশ: শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৩ অপরাহ্ণ
দেশের ৬ শতাংশ মানুষ প্রতিবন্ধী: সমাজকল্যাণমন্ত্রী
রংপুর প্রতিনিধি ঃ আন্তর্জাতিক হিসাব ও পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনোভাবে প্রতিবন্ধিতার শিকার। দেশে বর্তমানে সরকারের খাতায় নিবন্ধিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংখ্যা প্রায় ৪৫ লাখ। তাঁদের উপযুক্ত সহায়তা প্রদান এবং সমাজের দক্ষ জনসম্পদে পরিণত করতে বর্তমান সরকার নানামুখী কল্যাণকর কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে রংপুর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের মিলনায়তনে রংপুর বিভাগের সমাজসেবা কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন এমপি এসব তথ্য জানান।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, “বর্তমানে দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দোরগোড়ায় থেরাপি সেবা পৌঁছে দিতে ৪৫টি আধুনিক ‘মোবাইল থেরাপি ইউনিট’ মাঠপর্যায়ে নিরলসভাবে কাজ করছে। ভবিষ্যতে এই সেবামূলক কার্যক্রমের পরিধি আরও অনেক সম্প্রসারণ করা হবে।”

বিশেষায়িত শিক্ষার অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি জানান, দেশে বর্তমানে মোট প্রায় ২ হাজার ৬০০টি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৮৫টি পুরোপুরি নিবন্ধিত এবং ৭৫টি সরকারি এমপিওভুক্তির আওতায় এসেছে। চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ উদ্যোগে সারাদেশে ১count হাজার ৭০০টি বিশেষায়িত বিদ্যালয় সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। সরকার এখন প্রতিটি জেলায় একটি করে আন্তর্জাতিক মানের মডেল প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় এবং দেশের প্রতিটি উপজেলায় অন্তত একটি করে মানসম্মত প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় স্থাপনের মহাপরিকল্পনা নিয়ে কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।

ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমাজের মূলধারায় পুরোপুরি সম্পৃক্ত ও স্বাবলম্বী করতে সমাজসেবা অধিদপ্তর, নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, জাতীয় মহিলা সংস্থা এবং প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন এখন সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতির বিষয়ে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে মন্ত্রী বলেন, “বর্তমান সরকার সব ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ (শূন্য সহনশীলতা) নীতি অনুসরণ করছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী যদি বিন্দুমাত্র দুর্নীতিতে জড়ালে তাকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। এমনকি বিগত সময়ের দুর্নীতির যেসব সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সহ সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো নিবিড়ভাবে তদন্ত করছে।”

বহুল প্রতীক্ষিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি যোগ্য ও দরিদ্র পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে। তবে কেবল নির্ধারিত সরকারি মানদণ্ড পূরণকারীরাই এই বিশেষ সুবিধা পাবেন। স্বচ্ছতা নিশ্চিতে প্রথমে জনবল নিয়োগ ও বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এরপর বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রকৃত তথ্য সংগ্রহ করে কম্পিউটারভিত্তিক ডিজিটাল যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে আসল উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে। আগামী ১০ থেকে ১২ সপ্তাহের মধ্যে রংপুর সিটি করপোরেশন এলাকাসহ সারাদেশের প্রতিটি উপজেলায় একযোগে এই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে।

তিনি আরও যোগ করেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সব ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা ও আর্থিক সহায়তা এখন কোনো মাধ্যম ছাড়াই সরাসরি উপকারভোগীর নিজস্ব ব্যাংক হিসাবে (জিটুপি পদ্ধতিতে) পাঠানো হচ্ছে। নতুন ফ্যামিলি কার্ডের অর্থও একই আধুনিক পদ্ধতিতে বিতরণ করা হবে। ফলে মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের অন্যায় সুযোগ নেওয়ার পথ বন্ধ হয়ে গেছে এবং উপকারভোগীরা শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে সরকারি সেবা পাচ্ছেন।

দারিদ্র্য বিমোচনে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যকারিতা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় কেবল ভাতা দিয়েই দায়িত্ব শেষ করছে না, বরং স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে সেলাই, কম্পিউটার, হাঁস-মুরগি পালন, প্লাম্বিং, মোবাইল ফোন মেরামতসহ বিভিন্ন কারিগরি বিষয়ে যুবসমাজকে কর্মমুখী প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। প্রশিক্ষণ শেষে স্ব-স্ব কাজের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বিনামূল্যে সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের জামানতবিহীন ও বিনাসুদে বিশেষ ক্ষুদ্রঋণও দেওয়া হচ্ছে।

মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেজেকা সুলতানা ফেন্সি, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন নবী ডন, জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব, জেলা বিএনপির সদস্য লিটন পারভেজ এবং জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এমদাদুল হক ভরসাসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

মন্তব্য করুন