ডোমারে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পশুপালন ও ফটক বন্ধের অভিযোগ
মোঃ মকবুলার রহমান, ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধি: নীলফামারীর ডোমার উপজেলার ভোগডাবুড়ীতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রাঙ্গণে দীর্ঘদিন ধরে ছাগল, হাঁস ও কবুতর পালন, ঘাসের আবাদ এবং রোগী ও সেবা গ্রহীতাদের প্রবেশের মূল ফটক বন্ধ রাখার অভিযোগ উঠেছে একজন ফার্মাসিস্টের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা ও জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়কে একাধিকবার অবহিত করা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির বিভিন্ন স্থানে ছাগল, হাঁসের ও কবুতরের বিচরণ রয়েছে। কোথাও কোথাও পড়ে আছে ছাগল ও হাঁসের বিষ্ঠা। ভবনের ছাদের ওপর ছাগল রাখার জন্য একটি ঘরও তৈরি করা হয়েছে বলে দেখা গেছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনের নির্ধারিত জায়গায়ও ঘাসের আবাদ করতে দেখা যায়। এতে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ, পরিচ্ছন্নতা ও রোগীবান্ধব ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, কয়েক বছর আগেও ভোগডাবুড়ী স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে রোগী ও সেবা গ্রহীতাদের নিয়মিত উপস্থিতি ছিল। বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিতে প্রতিদিনই স্থানীয় মানুষ সেখানে আসতেন। প্রতিষ্ঠানটির আশপাশের পরিবেশও ছিল তুলনামূলকভাবে কর্মচঞ্চল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রতিষ্ঠানটির পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে বলে অভিযোগ তাদের।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের রোগীসেবার জন্য নির্ধারিত জায়গা কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছে? সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণে পশুপালন কিংবা ঘাসের আবাদ করার অনুমতি রয়েছে কি না, সে বিষয়েও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির ফার্মাসিস্ট পলাশ চন্দ্র ছাগল পালনের কারণে প্রায়ই প্রতিষ্ঠানের মূল ফটক বন্ধ রাখেন। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রবেশের জন্য বিকল্প হিসেবে থাকা পকেট গেটটি খোলা থাকলেও সেটিও অনেক সময় বন্ধ পাওয়া যায় বলে অভিযোগ করেছেন তারা। ফলে স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের অনেক সময় গেট খুলে ভেতরে প্রবেশ করতে হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এতে বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্ক সেবা গ্রহীতাদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিচ্ছন্নতা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ‘ভয়েস অব চিলাহাটি’ পেজে এ বিষয়ে একটি পোস্ট প্রকাশের পর এক সেবাগ্রহীতা মন্তব্যে জানান, তিনি সন্তানকে টিকা দিতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে ছাগলের মল-মূত্রের গন্ধ, কাঁঠালপাতার স্তূপ এবং কবুতরের বিষ্ঠা দেখতে পান। তার এই মন্তব্যের পর স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ এবং শিশুদের টিকাদানসহ অন্যান্য সেবা গ্রহণের উপযোগী পরিবেশ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের জায়গা কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। সরকারি দায়িত্ব পালনের প্রয়োজনে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর সেখানে থাকার সুযোগ থাকলেও সেই সুযোগের আড়ালে প্রতিষ্ঠানের জায়গা ব্যক্তিগত পশুপালন, ঘাসের আবাদ কিংবা অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা উচিত নয়। তাদের মতে, সরকারি সম্পত্তি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগ সত্য হলে বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নির্ধারিত জায়গা সেবা কার্যক্রমের জন্য যথাযথভাবে ব্যবহারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এ কারণে প্রশ্ন উঠেছে, নিয়মিত তদারকির আওতায় থাকা একটি সরকারি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের প্রাঙ্গণে এ ধরনের কর্মকাণ্ড দীর্ঘদিন চললেও উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নজরে বিষয়টি আসছে না কেন। স্থানীয়রা দ্রুত সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা যাচাই, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, রোগী ও সেবা গ্রহীতাদের নির্বিঘ্ন প্রবেশ নিশ্চিত করা এবং সরকারি সম্পত্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হিসেবে স্থানীয়রা জানতে চাইছেন, একজন ফার্মাসিস্ট সরকারি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের প্রাঙ্গণে ছাগল পালন করতে পারেন কি না। একই সঙ্গে রোগী ও সেবা গ্রহীতাদের প্রবেশের মূল ফটক বন্ধ রাখার কোনো প্রশাসনিক অনুমোদন আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা ও জেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ফার্মাসিস্ট পলাশ চন্দ্রের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলা ও জেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।
এআইএল/সকালবেলা