গোবিপ্রবিতে রাত নামলেই নির্জন স্থানে অসামাজিক কার্যকলাপ, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

প্রকাশ: শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০২:২৩ অপরাহ্ণ
গোবিপ্রবিতে রাত নামলেই নির্জন স্থানে অসামাজিক কার্যকলাপ, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস (ফাইল ছবি)।

মো. ইসতিয়াক আহম্মদ আসিফ, গোবিপ্রবি প্রতিনিধি: গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবিপ্রবি) ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে যুগলদের আপত্তিকর আচরণ ও অনাকাঙ্ক্ষিত মেলামেশার অভিযোগ উঠেছে। এতে ক্যাম্পাসের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম অস্বস্তি ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ক্যাম্পাসজুড়ে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ ও নিয়মিত নিরাপত্তা নজরদারির দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকপাড়, কফি হাউস সংলগ্ন চত্বর, মন্দির এলাকা ও কেন্দ্রীয় মাঠের বসার বেঞ্চসহ বিভিন্ন নির্জন স্থানে প্রায়ই যুগলদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখা যায়। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব স্থানে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে, রাতে এসব নির্জন পয়েন্টে পর্যাপ্ত আলোর স্বল্পতা এবং মানুষের স্বাভাবিক চলাচল কম থাকার সুযোগ নেয় অনেকে। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এসব কর্মকাণ্ডে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীই নয়, আশপাশের এলাকার বহিরাগত বিভিন্ন বয়সী তরুণ-তরুণীদেরও দলবেঁধে ক্যাম্পাসে এসে অবস্থান নিতে দেখা যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাজ্জাদ হোসেন আরিফ বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে প্রেম-ভালোবাসা বা পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ অনুভূতির একটি স্বাভাবিক প্রকাশ হতে পারে। কিন্তু সেই সম্পর্ক যখন শালীনতার সীমা অতিক্রম করে অনৈতিক ও দৃষ্টিকটু রূপ নেয়, তখন তা পুরো ক্যাম্পাসের পরিবেশকে কলুষিত করে। কিছুদিন আগে ক্যাম্পাসে এমন একাধিক অশালীন দৃশ্য আমার নজরে এসেছে। ক্যাম্পাসের পরিবেশ সুন্দর ও সুশৃঙ্খল রাখতে প্রশাসনের অবিলম্বে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো দরকার।"

অর্থনীতি বিভাগের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মারজাহান আক্তার শিমু বলেন, "যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিনষ্টকারী কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত প্রশাসনিক বিধিমোতাবেক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় বহিরাগতরা এসে আড্ডা বসিয়ে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি করছে। ক্যাম্পাসের পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা টহল জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি।"

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. আহসান সৌরভ বলেন, "ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা রক্ষীদের (আনসার) সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে—কোনো শিক্ষার্থী কিংবা বহিরাগতকে আপত্তিকর বা অসংগতিপূর্ণ অবস্থায় দেখলে তাৎক্ষণিকভাবে যেন প্রক্টরিয়াল বডিকে অবহিত করা হয়। শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রতিদিন রাত ৯টার দিকে ক্যাম্পাসে নিয়মিত প্রক্টরিয়াল টিম টহল পরিচালনা করছে।"

তিনি আরও বলেন, "ইতিপূর্বে যাদের এ ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে পাওয়া গেছে, তাদের শনাক্ত করে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় চেয়ারম্যানকে অবগত করার মাধ্যমে প্রথম দফায় সতর্ক করা হয়েছে। একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলে কিংবা বহিরাগত কেউ জড়িত থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্টদের অভিভাবকদের ক্যাম্পাসে তলব করা হবে।"

মন্তব্য করুন