ঢাবির অধিভুক্ত ৭ কলেজের একাডেমিক মাইগ্রেশনে বড় অগ্রগতি

প্রকাশ: সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫৫ পূর্বাহ্ণ
ঢাবির অধিভুক্ত ৭ কলেজের একাডেমিক মাইগ্রেশনে বড় অগ্রগতি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের একাডেমিক মাইগ্রেশন প্রক্রিয়ায় নীতিগত ঐক্যমতে পৌঁছেছে কর্তৃপক্ষ (ফাইল ছবি)।

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধিভুক্ত সাত সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীদের বহুল প্রতীক্ষিত একাডেমিক মাইগ্রেশন এবং নবগঠিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ও চূড়ান্ত অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।

গতকাল রবিবার (২৩ আগস্ট ২০২৬) রাতে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার মো. শহীদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই অগ্রগতির তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাত কলেজের ২০২১-২২, ২০২২-২৩ এবং ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্ট নতুন প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ নীতিগতভাবে একমত পোষণ করেছে। গত ২৩ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এই পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সরকারের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিবৃন্দ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উচ্চপদস্থ প্রশাসন এবং অধিভুক্ত সাতটি কলেজের অধ্যক্ষগণ। বৈঠকে শিক্ষার্থীদের মাইগ্রেশন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন প্রশাসনিক দিক, আইনি কাঠামো এবং সম্প্রতি অনুষ্ঠিত অনলাইন ভোটের মতামত বিস্তারিত পর্যালোচনা শেষে স্থানান্তরের ব্যাপারে চূড়ান্ত সম্মতি প্রকাশ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিনের এই একাডেমিক রূপান্তরের প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে ইতোমধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবারের (২৭ আগস্ট ২০২৬) মধ্যে এ সংক্রান্ত বিস্তারিত ও চূড়ান্ত রোডম্যাপ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।

এর আগে সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের মতামত যাচাইয়ের লক্ষ্যে গত ১৭ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে ঐতিহাসিক ভোটগ্রহণ শুরু হয়, যা চলে ২১ আগস্ট বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

ভোটের প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৫৪ হাজার ৩৯৬ জন ভোটারের মধ্যে ১৯ হাজার ৬৮২ জন শিক্ষার্থী ভোটাধিকারে অংশ নেন (অংশগ্রহণের হার ৩৬ দশমিক ১৮ শতাংশ)। যার মধ্যে ১৭ হাজার ১২ জন শিক্ষার্থী (ভোট প্রদানকারীদের মধ্যে ৮৬ দশমিক ৪ শতাংশেরও বেশি) একাডেমিক মাইগ্রেশনের পক্ষে অর্থাৎ ‘হ্যাঁ’ ভোট দেন। অন্যদিকে ‘না’ ভোট দেন ২ হাজার ৫৩২ জন এবং মতামত প্রকাশ থেকে বিরত থাকেন ১৩৮ জন শিক্ষার্থী।

শিক্ষার্থীদের এই নিরঙ্কুশ সমর্থনের ওপর ভিত্তি করেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত মাইগ্রেশন প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে চূড়ান্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

মন্তব্য করুন