খাদ্য ব্যবসায়ীদের আতঙ্কের নাম তুকারাম মুণ্ডে

প্রকাশ: সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ০১:০০ অপরাহ্ণ
খাদ্য ব্যবসায়ীদের আতঙ্কের নাম তুকারাম মুণ্ডে
মহারাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) কমিশনার তুকারাম মুণ্ডে।

অনলাইন ডেস্ক: রেস্তোরাঁয় খেতে গিয়ে টেবিলের পনির নকল কি না চিনে ফেলা কিংবা অনিয়ম দেখে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া—ভারতের মহারাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) কমিশনার তুকারাম মুণ্ডে এখন মুম্বাইয়ের খাদ্য ব্যবসায়ীদের কাছে এক আতঙ্কের নাম। সম্প্রতি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই খাবারের মান ও পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় অত্যন্ত কড়া অবস্থান নিয়েছেন ২১ বছরের প্রশাসনিক ক্যারিয়ারের এই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।

দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র তিন মাসের মধ্যে মুণ্ডের নেতৃত্বে ৩ হাজার ১০০টিরও বেশি খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ও রেস্তোরাঁয় হঠাৎ পরিদর্শন পরিচালনা করা হয়েছে। অনিয়মের হাতেনাতে প্রমাণ মেলায় প্রায় ১৬৫টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে এবং ৭৫০টির বেশি আউটলেটকে নোটিশ জারি করা হয়েছে।

তুকারাম মুণ্ডের এই ঝটিকা অভিযানের হাত থেকে রেহাই পায়নি বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডগুলোও। নোংরা পরিবেশ, তেলাপোকা ও পচা খাবার রাখার অভিযোগে আন্তর্জাতিক ফুট চেইন ডমিনোজের ৪টি এবং পিৎজা হাটের ১টি আউটলেটের লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে। বাদ পড়েনি ম্যাকডোনাল্ডসের আউটলেটও।

কেবল বড় বড় রেস্তোরাঁই নয়—রাস্তার ধারের বড়া পাওয়ের দোকান, ডেইরি, শতবর্ষী আইসক্রিমের দোকান, অনলাইন ফুড ডেলিভারির গুদাম এমনকি আদালতের ভেতরের ক্যাফেটেরিয়াতেও তাঁর নির্দেশে তল্লাশি চালোনো হয়েছে। জুনে খবরের কাগজে বড়া পাও মোড়ানো নিষিদ্ধ করার পর এখন মুম্বাই জুড়ে পরিচ্ছন্ন বাটার পেপার ব্যবহারের ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।

কঠোর অভিযানের কারণে ব্যবসায়ীদের একাংশ কিছুটা অসন্তুষ্ট হলেও সাধারণ ভোক্তারা বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিদিন ভেজাল ও নোংরা খাবারের ছবি ও ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়ানোর কাজও করছেন এই আপসহীন কর্মকর্তা।

মন্তব্য করুন