ছাত্রীর মায়ের দায়ের কোপে স্কুলশিক্ষিকার আঙুল বিচ্ছিন্ন
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বকেয়া টাকা চাওয়া বা ধারের বিরোধের জেরে এক স্কুলশিক্ষিকাকে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে জখম করার অভিযোগ উঠেছে এক ছাত্রীর মায়ের বিরুদ্ধে। হামলায় ওই শিক্ষিকার মাথায় ১০টি গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে এবং হাতের একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
গুরুতর আহত ওই শিক্ষিকাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত প্রিয়া বেগম (২৫) নামের ওই নারীকে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই ২০২৬) আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে গতকাল সোমবার সকালে ভৈরবের শিবপুর ইউনিয়নের পানাউল্লাহচর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, আহত সিঁথি সীমিতা (২৮) স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষিকা। তিনি কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বাসায় গিয়েও পড়াতেন। গত তিন মাস ধরে তিনি অভিযুক্ত প্রিয়া বেগমের মেয়েকে পড়িয়ে আসছিলেন। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা টিউশনির বকেয়া টাকা চাওয়ায় প্রিয়া বেগম ক্ষুব্ধ হন। তবে স্বজনদের আরেকটি অংশের দাবি, কয়েকদিন আগে প্রিয়া শিক্ষিকার কাছে ২০ হাজার টাকা ধার চেয়েছিলেন। সেই টাকা না দেওয়ায় ক্ষোভ থেকে এই হামলা হতে পারে।
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার সকালে ছাত্রীকে পড়ানো শেষে বাসা থেকে বের হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন সিঁথি। এ সময় প্রিয়া বেগম ঘরের দরজায় ছিটকিনি লাগিয়ে ধারালো দা দিয়ে তাঁর ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালান।
আহত শিক্ষিকার দেবর সারোয়ার বলেন, ‘প্রথম কোপটি মাথায় লাগার পর দরজা খুলে বের হওয়ার চেষ্টা করে সিঁথি। কিন্তু দরজায় দুটি ছিটকিনি লাগানো থাকায় সে বের হতে পারেনি। তাঁর শরীরে থাকা স্বর্ণালংকার দেখে কোপানোর সময় প্রিয়া বলছিল—আমার কাছে এক আনা স্বর্ণ নেই, তুই এত স্বর্ণ পরে আছিস কেন?’
পরে শিক্ষিকার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন। প্রথমে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় দ্রুত তাঁকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সিঁথির শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। তাঁর সাতটি আঙুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একটি আঙুল শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। চিকিৎসকরা তাঁর মাথায় ১০টি গভীর ক্ষত শনাক্ত করেছেন, যেখানে প্রায় ৫০টি সেলাই দিতে হয়েছে। মামলার বাদী শিশু মিয়া বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাচেষ্টা এবং এর পেছনে স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যও থাকতে পারে।
ভৈরব থানার জ্যেষ্ঠ উপপরিদর্শক (এসআই) এমদাদুল কবির বলেন, অভিযুক্ত প্রিয়া বেগমকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। হামলার পেছনে প্রকৃত কারণ টিউশনির বকেয়া, ধার-সংক্রান্ত বিরোধ নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্য—সব বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এআইএল/সকালবেলা
|