কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান ধমনী ও গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের স্নায়ুযুদ্ধ এবার সরাসরি সামরিক সংঘাতে রূপ নিয়েছে। টানা তৃতীয় রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন দ্বীপে ও উপকূলীয় সেনা চৌকিতে মার্কিন যুদ্ধবিমান থেকে বোমা হামলার পর, এবার নজিরবিহীন পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে তেহরান। প্রতিবেশী দেশ কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন কৌশলগত সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান।
বিশেষ করে বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন নৌবাহিনীর অন্যতম প্রধান স্তম্ভ ‘পঞ্চম নৌবহর’ (US Fifth Fleet) লক্ষ্য করে এই ভয়াবহ হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের এলিট ফোর্স ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের ওপর চালানো এবারের বিমান হামলাগুলো মূলত হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণে ইরানের সামরিক সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই করা হয়েছে। মার্কিন বাহিনীর মূল লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল ইরানের উপকূলীয় নিরাপত্তা ঘাঁটি, বিমান হামলা প্রতিরোধক আন্ডারগ্রাউন্ড আশ্রয়কেন্দ্র এবং হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার সঙ্গে জড়িত ইরানি কোস্টগার্ডের সামরিক স্থাপনাগুলো।
ইরানের স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর সূত্রমতে, আমেরিকার এই বিমান হামলায় আবু মুসা ও কেশম দ্বীপের পাশাপাশি এবার প্রথমবারের মতো পর্যটন ও বাণিজ্যিক দ্বীপ ‘কিশ’-এ বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এছাড়াও ইরানের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক বন্দরনগরী বান্দার আব্বাস, জ্বালানি সমৃদ্ধ খুজেস্তান প্রদেশ, বুশেহর, কোনারাক, চাবাহার, ওমিদিয়েহ, জাম ও কানগানের তেল ও গ্যাস অবকাঠামো লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়।
মার্কিন হামলার জবাবে ইরান কেবল আত্মরক্ষা নয়, বরং সরাসরি পাল্টা আঘাতের নীতি বেছে নিয়েছে। ইরানের নিয়মিত সেনাবাহিনী ও আইআরজিসি যৌথভাবে প্রথমে একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে এবং পরবর্তীতে কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে সফল হামলা চালানোর দাবি করেছে। তেহরানের দাবি, তাদের সুনির্দিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটির যোগাযোগ কেন্দ্র, প্রধান জ্বালানি ডিপো এবং অত্যাধুনিক ‘প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা’ (Patriot Missile System) মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
একই সময়ে হরমুজ প্রণালির আকাশসীমায় নজরদারি চালানো যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক ‘এমকিউ-১’ (MQ-1) ড্রোন নিখুঁত নিখিল ছোঁড়ার মাধ্যমে ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরান।
সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি এসেছে বাহরাইনের মার্কিন নৌঘাঁটিতে। আইআরজিসির (IRGC) দাবি অনুযায়ী, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও আত্মঘাতী ড্রোন বহর বাহরাইনের মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের মূল প্রতিরক্ষা দেয়াল ভেঙে ভেতরে আঘাত হেনেছে। এই সুনির্দিষ্ট হামলায় ঘাঁটির প্রধান জ্বালানি সংরক্ষণাগারে বিশাল অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়।
আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, তাদের নিখুঁত হামলায় মার্কিন নৌবহরের নিচে উল্লিখিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। আইআরজিসির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তাদের এই ‘প্রতিশোধমূলক সামরিক অভিযান’ এখনও অব্যাহত রয়েছে এবং অঞ্চলজুড়ে থাকা অন্য মার্কিন ঘাঁটিগুলোতেও ভবিষ্যতে আরও বড় ধরণের হামলা চালানো হবে। এই ঘটনার পর পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে এক চরম যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে, যা বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরণের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
|