বাগেরহাটে জনপ্রিয় হচ্ছে পরিবেশবান্ধব কংক্রিট ব্লক

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩০ অপরাহ্ণ
বাগেরহাটে জনপ্রিয় হচ্ছে পরিবেশবান্ধব কংক্রিট ব্লক

মাসুম বিল্লাহ, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ কৃষিজমির উর্বর মাটি কেটে পোড়া ইট তৈরির প্রচলিত ধারা থেকে বেরিয়ে এসে বাগেরহাটে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে পরিবেশবান্ধব কংক্রিট ব্লক। গ্রামীণ সড়ক নির্মাণে বিটুমিনাস কার্পেটিং ও মাটিপোড়া ইটের পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে ইউনি ব্লক। পাশাপাশি হলো ব্লক, সলিড ব্লক, এএসি ব্লক, ডিজাইন ব্লক, ইকো-ব্রিক ও পার্কিং টাইলস দিয়ে নির্মিত হচ্ছে আধুনিক আবাসিক ভবন, মসজিদ, লাইব্রেরি এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক স্থাপনা। টেকসই, ব্যয় সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব হওয়ায় এসব সামগ্রীর ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে।

জেলার বিভিন্ন কারখানায় প্রতিদিন উৎপাদিত হচ্ছে হাজার হাজার কংক্রিট ব্লক। উদ্যোক্তা আবু সাইদ, আল মামুন, ফিরোজ আহমেদ, জিয়াউল হক, কামাল হোসেন ও জিয়াউর রহমানের কারখানায় ফ্লাই অ্যাশ (কয়লার ছাই), পাথরের খোয়া ও মোটা বালু দিয়ে তৈরি হচ্ছে এসব আধুনিক ব্লক।

পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর সহযোগিতায় এবং কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (কোডেক)-এর বাস্তবায়নে এখানে ‘স্মার্ট’ (SMART) প্রকল্প চলছে। এ প্রকল্পের আওতায় বাগেরহাটের বিভিন্ন উপজেলায় অন্তত ২৪ জন উদ্যোক্তা পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রী উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।

ইতোমধ্যে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার তেলিপুকুর এলাকায় নির্মিত হয়েছে একটি পরিবেশবান্ধব আদর্শ মসজিদ। প্রায় ১ হাজার ৪৩৫ বর্গফুট আয়তনের এ মসজিদে প্রচলিত পোড়া ইটের পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়েছে কংক্রিট হলো ব্লক, সলিড ব্লক ও ইউনি পেভার। অন্যদিকে ইউনি ব্লক দিয়ে নির্মিত গ্রামীণ সড়ক ব্যবহার করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী ও চালকেরা।

প্রকল্প ব্যবস্থাপক লোকমান হোসেন বলেন, "আমরা উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে আসছি, যার ফলে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির প্রসার ঘটছে।" কোডেকের পরিচালক স্থপতি কাজী ওয়াফিক আলম জানান, উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার কারণে পোড়া ইট দীর্ঘস্থায়ী হয় না, সেখানে কংক্রিট ব্লক অত্যন্ত কার্যকর। এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মঞ্জুর রশীদও জানান, স্থায়িত্বের কারণে গ্রামীণ সড়কে ইউনি ব্লকের ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, "বর্তমানে দেশে আনুমানিক ৮ হাজারের মতো ইটভাটা রয়েছে, যার মধ্যে ৫ হাজারই অবৈধ। ইটভাটা পরিবেশ দূষণের অন্যতম প্রধান উৎস। পূর্বে ২০২৪-২৫ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে ইটভাটার পরিবর্তে ব্লক প্রযুক্তিতে রূপান্তরের লক্ষ্য থাকলেও বর্তমানে এ ক্ষেত্রে আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে। আমরা সব দপ্তরের সাথে সমন্বয় করে দ্রুত বিকল্প প্রযুক্তিতে রূপান্তরের কাজ করছি।"

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে এর ব্যবহার আরও সম্প্রসারণ করা গেলে মাটিপোড়া ইটের ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং দেশের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সহজ হবে।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন