ইকুয়েডরে পুলিশের ছদ্মবেশে মাদক সম্রাট ফিতোর ভাইকে হত্যা

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ
ইকুয়েডরে পুলিশের ছদ্মবেশে মাদক সম্রাট ফিতোর ভাইকে হত্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ল্যাটিন আমেরিকার দেশ ইকুয়েডরের অন্যতম কুখ্যাত ও শক্তিশালী মাদক ও অপরাধী চক্র ‘লস চোনেরোস’ (Los Choneros)-এর শীর্ষ নেতৃত্ব আরও একবার বড় ধাক্কা খেল। গত রবিবার দেশের প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলীয় অঞ্চল ওলোন শহরে গ্যাংটির প্রভাবশালী আঞ্চলিক নেতা ৩৫ বছর বয়সী ডেভিড মাসিয়াসকে (David Macías) নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করেছে একদল সশস্ত্র বন্দুকধারী। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, হত্যাকারীরা পেশাদার পুলিশ কর্মকর্তার ছদ্মবেশে এসে এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছে।

ইকুয়েডর পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, রবিবার ওলোন শহরে ডেভিডের ভাড়া করা একটি বিলাসবহুল বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ কর্মকর্তার পোশাক পরিহিত কয়েকজন বন্দুকধারী। বাড়ির ভেতরে ঢোকার সাথে সাথেই তারা ডেভিড মাসিয়াসকে লক্ষ্য করে অতর্কিতে গুলি ছোঁড়ে এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু নিশ্চিত করে দ্রুত পালিয়ে যায়। এই নাটকীয় ও সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ প্রশাসন এখন পর্যন্ত কাউকেই গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়নি।

নিহত ডেভিড মাসিয়াস অপরাধ জগতের সাধারণ কোনো চরিত্র ছিলেন না। তিনি ‘লস চোনেরোস’-এর সর্বোচ্চ প্রধান এবং ইকুয়েডরের ইতিহাসের অন্যতম ত্রাস মাদক সম্রাট অ্যাডলফো মাসিয়াস (Adolfo Macías)— যিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ বিশ্বে ‘ফিতো’ (Fito) নামে পরিচিত— তাঁর আপন ভাই। গত বছর ‘ফিতো’কে নাটকীয়ভাবে ইকুয়েডর থেকে আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয়েছিল, যেখানে বর্তমানে তিনি বিচারাধীন রয়েছেন। উল্লেখ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই ‘লস চোনেরোস’ গ্যাংটিকে একটি বিপজ্জনক ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।

পুলিশের নথিপত্র এবং গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ডেভিড মাসিয়াস ২০১৮ সালে ইকুয়েডরে একটি বড় অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগে নিজের দোষ স্বীকার করেছিলেন। পরবর্তীতে কারাগারে সাজা খাটার সময় তিনি পুরো কারাগারের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেন এবং সেখান থেকেই ‘লস চোনেরোস’-এর জন্য নতুন নতুন দুর্ধর্ষ সদস্য সংগ্রহ করতে শুরু করেন। মূলত একটি নির্দিষ্ট কারাগারে এই সন্ত্রাসী গ্যাংটির দুর্ভেদ্য শক্ত অবস্থান গড়ে তোলার পেছনে ডেভিডের মস্তিষ্কই প্রধান ভূমিকা পালন করেছিল।

লাতিন আমেরিকার এই দেশে মাদক পাচারের রুট এবং অভ্যন্তরীণ অঞ্চলের একক আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিভিন্ন অপরাধ চক্রগুলোর মধ্যে প্রায়শই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে থাকে। প্রতিদ্বন্দ্বী চক্রের হামলা অথবা নিজেদের দলের ভেতরের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিশ্বাসঘাতকতার কারণে প্রায়ই গ্যাং লিডাররা এভাবে প্রকাশ্য হামলার শিকার হন। এর আগে গত মাসেও ইকুয়েডরের গুয়াকিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বাইরে অপর এক শীর্ষ গ্যাং নেতা বন্দুকধারীদের গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে মারা যান।

গোয়েন্দারা মনে করছেন, গত বছর মূল প্রধান অ্যাডলফো মাসিয়াস ‘ফিতো’র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রত্যর্পণ, গত মাসে কলম্বিয়ায় তাদের আরেক ভাই হাভিয়ের মাসিয়াসের গ্রেফতার এবং সর্বশেষ এই ইকুয়েডরে ডেভিড মাসিয়াসের পুলিশের ছদ্মবেশে হত্যাকাণ্ড— সব মিলিয়ে ‘লস চোনেরোস’ গ্যাংটির কোমর সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে এবং ল্যাটিন আমেরিকার আন্ডারওয়ার্ল্ডে নতুন কোনো রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

মন্তব্য করুন