র্যাবের ভেস্ট ও অস্ত্র দেখিয়ে ডাকাতি: চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তার করল ডিবি

প্রকাশ: শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০২:২১ অপরাহ্ণ
র্যাবের ভেস্ট ও অস্ত্র দেখিয়ে ডাকাতি: চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তার করল ডিবি

অনলাইন ডেস্ক: রাজধানী ঢাকায় ঘটে যাওয়া সিংহভাগ ডাকাতি ও সশস্ত্র ছিনতাইয়ের ঘটনার নেপথ্যে একটি নির্দিষ্ট সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, এই চক্রের মূল হোতা ও সদস্যদের সম্পূর্ণ গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলে মায়ানগরী ঢাকায় ডাকাতির প্রবণতা বহুলাংশে কমে আসবে।

সম্প্রতি রাজধানীর উত্তরার বিমানবন্দর সড়কে পেট্রোল পাম্পের ১ কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা লুণ্ঠনের ঘটনায় সরাসরি জড়িত ভুয়া র‍্যাব চক্রের পাঁচ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি। উল্লেখ্য, ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানটি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রয়াত বোন সাবেক সংসদ সদস্য খুরশীদ জাহান হকের ছোট ছেলে তাসীন আক্তার হকের মালিকানাধীন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—ইলিয়াস শিকদার (৩৬), জাফর (৩৬), রবিউল ইসলাম ওরফে রুবেল (৩৪), মিন্টু রাড়ী (২৩) ও সাগর বাড়ৈ (৪০)।

অভিযানকালে তাঁদের কাছ থেকে ৪টি ৭.৬৫ মি.মি. পিস্তল, ৬টি ম্যাগাজিন, ২১ রাউন্ড তাজা গুলি, লুণ্ঠিত নগদ ১২ লাখ টাকা, র‍্যাবের ভুয়া পরিচয়পত্র, র‍্যাবের মনোগ্রামযুক্ত ভেস্ট, ক্যাপ, ওয়াকিটকি, চার জোড়া হাতকড়া, ভুয়া নম্বর প্লেট এবং একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) শফিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে ডিবিপ্রধান বলেন, গত ৯ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উত্তরা পূর্ব থানাধীন ডিএল ফিলিং স্টেশনের চারজন কর্মী ১ কোটি ২১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যাংকে জমা দিতে যাচ্ছিলেন। বিমানবন্দর থানাধীন ক্রাউন প্লাজার কাছে বিআরটি লেনে পৌঁছালে মোটরসাইকেলে আসা একদল সশস্ত্র ডাকাত র‍্যাবের ভুয়া পরিচয়পত্র, আইডি কার্ড ও ওয়াকিটকি দেখিয়ে তাঁদের গতি রোধ করে। পরে অস্ত্র ও চাপাতি দিয়ে ভয় দেখিয়ে নগদ টাকা লুট করে পালিয়ে যায়।

ঘটনার পরপরই ডিবি ও উত্তরা ক্রাইম বিভাগ যৌথ তদন্তে নামে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ, বন্দর এলাকা, মাতুয়াইল, যাত্রাবাড়ী ও পোস্তগোলা এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে এই পাঁচজনকে গ্রেপ্তার এবং অস্ত্র-গুলিসহ লুণ্ঠিত টাকা উদ্ধার করা হয়।

এক প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, ডাকাতিতে ব্যবহৃত পিস্তলগুলো পরীক্ষা করে দেখা গেছে সেগুলো পুলিশের চুরিকৃত বা লুট হওয়া কোনো অস্ত্র নয়, বরং অবৈধ প্রক্রিয়ায় সংগৃহীত। চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং লুণ্ঠিত অবশিষ্ট টাকা উদ্ধারে ডিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মন্তব্য করুন