রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ: শামা ওবায়েদ

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৪০ অপরাহ্ণ
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ: শামা ওবায়েদ
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সুদৃঢ় ও কার্যকর সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ।

আজ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে রাজধানীর তোপখানা রোডস্থ সিরডাপ আন্তর্জাতিক মিলনায়তনে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক সেমিনারে অংশ নিয়ে এ কথা জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।

সেমিনারে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, মানবিক কারণে বাংলাদেশ প্রায় এক দশক ধরে ১৩ লাখেরও বেশি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে নিজ ভূখণ্ডে আশ্রয় দিয়ে আসছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে বিপুল এই জনসংখ্যার অবস্থানের কারণে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে এবং চরম জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ ওই অঞ্চলের ওপর তৈরি হয়েছে অপূরণীয় পরিবেশগত চাপ ও বন উজাড়ের সংকট। তাই কক্সবাজারের ভঙ্গুর প্রতিবেশ ব্যবস্থা রক্ষা ও মানবিক সংকট নিরসনে রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসনে বৈশ্বিক শক্তিগুলোর কার্যকর ও সমন্বিত পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি।

আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের আসন্ন কূটনৈতিক উদ্যোগের কথা জানিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, “আসন্ন বিশ্ব জলবায়ু শীর্ষ সম্মেলন (কপ)-এ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোহিঙ্গা সংকটের কারণে সৃষ্ট স্থানীয় পরিবেশগত বিপর্যয় মোকাবিলা এবং আন্তর্জাতিক দায়দায়িত্বের বিষয়টি বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবেন। এ ছাড়া জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশ অনুদানভিত্তিক জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিতকরণসহ মোট চারটি সুনির্দিষ্ট ও বলিষ্ঠ দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করবে।”

সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য জলবায়ু অর্থায়নকে কোনো ঋণ বা বাণিজ্যিক শর্তের বোঝায় রূপান্তর করা যাবে না; বরং এটি হতে হবে ন্যায্য, নিঃশর্ত এবং কার্যকর অনুদানভিত্তিক প্রত্যক্ষ সহায়তা।

একই সঙ্গে বৈশ্বিক দূষণ রোধ ও টেকসই ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে বাংলাদেশের সোনালী আঁশ পাটের অমিত সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শতভাগ পরিবেশবান্ধব ও দ্রুত পচনশীল (বায়োডিগ্রেডেবল) ন্যাচারাল ফাইবার হিসেবে পাটজাত পণ্যকে বিশ্ববাজারে প্রতিষ্ঠিত করতে সরকারের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় একযোগে কাজ করছে। জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে পাটের বৈশ্বিক ব্যবহার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সরকারের দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকার অনুযায়ী জলবায়ু পরিবর্তন রোধ ও রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বস্ত করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

মন্তব্য করুন