বেলুচিস্তানে পাকিস্তানের অভিযানে আরও ১৬ সশস্ত্র ব্যক্তি নিহত

প্রকাশ: রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৯ অপরাহ্ণ
বেলুচিস্তানে পাকিস্তানের অভিযানে আরও ১৬ সশস্ত্র ব্যক্তি নিহত
বেলুচিস্তানের জিয়াত ও সংলগ্ন পার্বত্য এলাকায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযান (ফাইল ছবি)।

অনলাইন ডেস্ক: পাকিস্তানের অস্থির ও খনিজসমৃদ্ধ প্রদেশ বেলুচিস্তানে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর চলমান বিশেষ সামরিক অভিযান ‘অপারেশন শাবান’-এ নতুন করে আরও ১৬ জন সশস্ত্র ব্যক্তি নিহত হয়েছে। এ নিয়ে প্রদেশটিতে চলমান ধারাবাহিক ও সমন্বিত অভিযানে সশস্ত্র ব্যক্তিদের নিহতের মোট সংখ্যা বেড়ে ১০২ জনে পৌঁছেছে বলে দাবি করেছে দেশটির সরকার।

পাকিস্তানের শীর্ষ সামরিক ও নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, জিয়ারাত জেলার মাঙ্গি ড্যাম পুলিশ স্টেশনে সশস্ত্র গোষ্ঠীর বড় ধরনের একটি হামলার পর এই বিশেষ যৌথ অভিযান শুরু হয়। এই অভিযানে পাকিস্তান সেনাবাহিনী, ফ্রন্টিয়ার কর্পস (এফসি) এবং বেলুচিস্তান পুলিশ যৌথভাবে ফ্রন্টলাইনে অংশ নিচ্ছে।

পাকিস্তানের সামরিক কমান্ডের দাবি, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সমন্বিত বিমান (যুদ্ধবিমান ও ড্রোন) এবং স্থল অভিযান চালিয়ে সশস্ত্র ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট গোপন আস্তানা লক্ষ্য করে এই হামলাগুলো চালানো হয়েছে। সর্বশেষ দফার এই অভিযানে আরও ১৬ জন নিহত হওয়ায় শুধু ‘অপারেশন শাবান’ কোডনামের এই বিশেষ অভিযানেই নিহতের সংখ্যা ৬৪ জনে পৌঁছেছে। আর বেলুচিস্তানের বিভিন্ন উপত্যকায় পরিচালিত অন্যান্য আনুষঙ্গিক অভিযানে সব মিলিয়ে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০২।

তবে নিরাপত্তা বাহিনীর এই ব্যাপক সাফল্যের দাবির মধ্যেই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সাম্প্রতিক তিনটি বড় পাল্টা হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও বেসামরিক নাগরিকসহ অন্তত ৪২ জন নিহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের এক উচ্চপদস্থ নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, বেলুচিস্তানের মাটি থেকে শেষ সশস্ত্র বা বিচ্ছিন্নতাবাদী ব্যক্তিকে সম্পূর্ণ নির্মূল না করা পর্যন্ত এই সামরিক অভিযান বিরতিহীনভাবে অব্যাহত থাকবে।

এদিকে, বেলুচিস্তানের কৌশলগত এন-২৫ (N-25) মহাসড়কে প্যারা-মিলিশিয়া বাহিনীর পৃথক এক সফল অভিযানে আরও দুইজন সশস্ত্র ব্যক্তিকে হত্যার দাবি করেছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী। নিহতদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ আধুনিক স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র, হ্যান্ড গ্রেনেড, মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।

এর আগে, পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, জিয়ারাতে হামলা পরিচালনাকারী সশস্ত্র ব্যক্তিরা মূলত প্রতিবেশী ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা দ্বারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সমর্থিত ছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মাঙ্গি ড্যাম পুলিশ স্টেশনে প্রাথমিক তীব্র সংঘর্ষে পুলিশ ও রেঞ্জার্স বাহিনী ১৫ জন হামলাকারীকে হত্যা করতে সক্ষম হলেও, সশস্ত্রদের অতর্কিত গুলিতে ৯ জন বীর পুলিশ সদস্য নিহত হন। তিনি আরও প্রকাশ করেন যে, নিরাপত্তা বাহিনীর মূল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই হামলাকারীরা বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে জিম্মি করে বুলেটের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছিল।

 পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, ২০২১ সালের আগস্টে প্রতিবেশী আফগানিস্তানে কট্টরপন্থী তালেবান গোষ্ঠী পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পাকিস্তানের বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখোয়া (কেপি) ও বেলুচিস্তানে সীমান্তপার সন্ত্রাসী হামলা নজিরবিহীনভাবে বেড়েছে। আফগান মাটি ব্যবহার করে পাকিস্তানি তালেবান (টিটিপি) ও বেলুচ বিদ্রোহীরা এই হামলা চালাচ্ছে।

এর জবাবে পাকিস্তান সেনাবাহিনী সম্প্রতি আফগান ভূখণ্ডের ভেতরেও ‘অপারেশন গাজাব লিল-হক’ নামে একটি বড় সীমান্তপার বিমান অভিযান চালিয়েছিল। পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী, সেই হামলায় আফগান তালেবান ও তাদের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বহু শীর্ষস্থানীয় সদস্য নিহত ও আহত হয়। এ ছাড়া, বিগত ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে কয়েক দিনব্যাপী চলা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী, ২০০-র বেশি তালেবান যোদ্ধা ও তাদের মিত্র নিহত হন এবং পাকিস্তানের ২৩ জন সেনাসদস্য প্রাণ হারান। পাকিস্তানের ভাষ্য অনুযায়ী, সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে কাবুল ও ইসলামাবাদের মধ্যে একাধিক দফা দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হলেও, আফগান তালেবান সরকার তাদের মাটিতে থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় এখনো দুই দেশের সম্পর্কে কোনো স্থায়ী রাজনৈতিক সমঝোতা তৈরি হয়নি।

মন্তব্য করুন