ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শোক
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম প্রবীণ অভিভাবক, সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির অন্যতম জ্যেষ্ঠ সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ রবিবার (১২ জুলাই) দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইং থেকে পাঠানো রাষ্ট্রীয় এক বিশেষ শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত ও চিরশান্তি কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতির এক প্রজ্ঞাবান, অত্যন্ত অভিজ্ঞ, সৎ ও নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিত্ব। তাঁর সুদীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে তিনি সততা, মেধা, প্রজ্ঞা ও গভীর দায়িত্ববোধের সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে অত্যন্ত সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন মেয়াদে তিনি শিক্ষামন্ত্রী, ভূমি প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং গণপূর্ত ও নগর উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রীসহ রাষ্ট্রের বহু গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পালন করে গেছেন।”
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুসংহত করা, সংসদীয় সংস্কৃতির সুস্থ বিকাশ এবং জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের অবদান এই জাতি চিরকাল গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে ও চিরদিন স্মরণ করবে।”
জমির উদ্দিন সরকার আজীবন বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, বহুদলীয় গণতন্ত্র ও জনগণের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আদর্শে কঠোরভাবে অবিচল ছিলেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তিনি দলের দীর্ঘ সংগ্রাম, রাজনৈতিক বৈরিতা, নানা প্রতিকূলতা ও দুঃসময়ের কোনো পর্যায়েই, কোনো ধরণের লোভ বা পরিস্থিতির শিকার হয়ে কখনো আদর্শচ্যুত হননি। চরম রাজনৈতিক দমন-পীড়ন ও রাজপথের নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি নিষ্ঠা, প্রজ্ঞা ও মানসিক দৃঢ়তার সঙ্গে দলীয় জাতীয়তাবাদী আদর্শকে বুক দিয়ে সমুন্নত রেখেছেন।”
বিগত দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলন ও সংগ্রামে মরহুমের বীরত্বপূর্ণ এবং আপসহীন ভূমিকার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “গণতন্ত্র, ভোটাধিকার এবং সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দীর্ঘ রাজপথের সংগ্রামে তাঁর অবিস্মরণীয় অবদান বিএনপির ইতিহাসে যেমন সোনার অক্ষরে ও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে থাকবে, তেমনি বাংলাদেশের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায়ও এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে থাকবে।”
শোকবার্তার শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের এই আকস্মিক মৃত্যুতে দেশ আজ একজন অভিজ্ঞ প্রবীণ রাজনীতিবিদ, অত্যন্ত দক্ষ সংসদীয় ব্যক্তিত্ব, বিচক্ষণ রাষ্ট্রনায়ক এবং সত্যিকারের খাঁটি দেশপ্রেমিককে হারাল, যা সহজে পূরণ হবার নয়। তাঁর সততা, রাজনৈতিক আদর্শ, প্রজ্ঞা ও গৌরবময় কর্মময় জীবন আগামী প্রজন্মের রাজনীতিকদের জন্য সব সময় একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত ও অনুপ্রেরণার সুমহান উৎস হয়ে থাকবে।”
প্রধানমন্ত্রী মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে মরহুম ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করার জন্য বিশেষ প্রার্থনা করেন। একই সঙ্গে তিনি মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও অসংখ্য গুণগ্রাহীর প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।
|