দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে ইন্দোনেশিয়াকে ৫ প্রস্তাব বাংলাদেশের
সকালবেলা অনলাইন: বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যকার বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করতে ইন্দোনেশিয়াকে সুনির্দিষ্ট পাঁচটি প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ।
সোমবার (৫ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ঢাকা সফররত ইন্দোনেশিয়ার উপ-পররাষ্ট্র মন্ত্রী আনিস মাত্তার সঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এ প্রস্তাবসমূহ উত্থাপন করা হয়।
বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যকার বিদ্যমান ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সম্পর্ক গভীর করার লক্ষ্যে ৫টি প্রস্তাব তুলে ধরেন। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে— ১. বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ইন্দোনেশিয়ায় অন-অ্যারাইভাল ভিসা পুনরায় চালু করা। ২. বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি পরিমাণে প্রস্তুতকৃত ওষুধ আমদানি করা। ৩. ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন পণ্যের পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিং নিশ্চিত করতে জি-টু-জি (জিটুজি) ভিত্তিতে বাংলাদেশ থেকে পাট ও পাটের ব্যাগ ক্রয় করা। ৪. বাংলাদেশি আলুর জন্য ইন্দোনেশিয়ার বাজার উন্মুক্ত করা। ৫. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় উভয় দেশের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার জন্য যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করা (এ প্রসঙ্গে একটি খসড়া সমঝোতা স্মারকও হস্তান্তর করা হয়)।
এছাড়া ইন্দোনেশিয়াকে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম হালাল পণ্যের বাজার উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী হালাল খাতে সহযোগিতা বাড়ানো এবং দুই দেশের সম্পর্ককে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বে (CEPA) উন্নীত করার ওপর জোর দেন। একইসঙ্গে তিনি আসিয়ানের (ASEAN) সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনারশিপ এবং আরসিইপি (RCEP)-এর সদস্যপদ অর্জনে এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ইন্দোনেশিয়ার সমর্থন কামনা করেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর প্রস্তাবনাগুলোকে স্বাগত জানিয়ে ইন্দোনেশিয়ার উপ-পররাষ্ট্র মন্ত্রী আনিস মাত্তা দুই দেশের সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীত করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি আগামী ৫ থেকে ১০ বছরে অগ্রাধিকারভিত্তিক যৌথ প্রকল্প গ্রহণ এবং পারস্পরিক যোগাযোগের সুবিধার্থে ঢাকা-জাকার্তা সরাসরি ফ্লাইট চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উল্লেখ্য, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন ইন্দোনেশিয়ার উপ-পররাষ্ট্র মন্ত্রী আনিস মাত্তা।
এআইএল/সকালবেলা