নিরাপদ খাবার পানির প্রাপ্ততা বাড়াতে পারে ডাচ-বাংলাদেশ সহযোগিতা: রাষ্ট্রদূত

প্রকাশ: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৪০ অপরাহ্ণ
নিরাপদ খাবার পানির প্রাপ্ততা বাড়াতে পারে ডাচ-বাংলাদেশ সহযোগিতা: রাষ্ট্রদূত
বরিশালে ম্যাক্স ফাউন্ডেশনের পাইপলাইনযুক্ত পানি সরবরাহ ব্যবস্থা পরিদর্শন করেন ডাচ রাষ্ট্রদূত ইয়োরিস ভ্যান বোমেল।

নেদারল্যান্ডস ও বাংলাদেশের সরকারি-বেসরকারি শক্তিশালী অংশীদারিত্বের (PPP) মাধ্যমে সারা বাংলাদেশের মানুষের, বিশেষ করে জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জন্য সাশ্রয়ী ও নিরাপদ খাবার পানির প্রাপ্যতা বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ডাচ রাষ্ট্রদূত ইয়োরিস ভ্যান বোমেল।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দুধলমৌ গ্রামে ম্যাক্স ফাউন্ডেশনের ‘বিল্ডিং ওয়াটার বিজনেস’ কর্মসূচি সরজমিনে পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে তিনি এ কথা বলেন।

ব-দ্বীপের মেলবন্ধন ও ট্যাপের পানি:

রাষ্ট্রদূত ইয়োরিস ভ্যান বোমেল বলেন, "নেদারল্যান্ডস ও বাংলাদেশ উভয় দেশই নদী, সমুদ্র ও ব-দ্বীপ কেন্দ্রিক। ফলে পানি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে দুটি দেশের বেশ মিল রয়েছে। আমাদের মূল লক্ষ্য পানি সংযোগের একেবারে 'শেষ প্রান্তে' থাকা মানুষের কাছে পৌঁছানো, যাতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী তাদের নিজস্ব ঘরে পাইপলাইনের মাধ্যমে পরিশোধিত পানি পেতে পারে।"

তিনি আরও বলেন, ঘরে ঘরে ট্যাপের পানি সহজলভ্য হলে কেবল সুপেয় পানির গুণগত মানই নিশ্চিত হবে না, বরং দূর-দূরান্ত থেকে খাবার পানি সংগ্রহের শারীরিক কষ্ট ও সময় বেঁচে যাবে, যা গ্রামীণ নারী ও কন্যাশিশুদের ওপর থেকে বড় সামাজিক বোঝা কমাবে।

ব্যবসায়িক মডেল ও ওয়াটার গ্রিড:

পরিদর্শনকালে ম্যাক্স ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা জোক লে পুল এবং কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. এটিএম তারিকুল ইসলাম প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তারা জানান, কোনো স্থায়ী অনুদান বা সাহায্যের ওপর নির্ভর না করে মাসিক সাশ্রয়ী ফি-এর ভিত্তিতে পাইপলাইনে পানি সরবরাহের একটি লাভজনক ও টেকসই ‘বিজনেস মডেল’ গড়ে তোলা হয়েছে।

ইতোমধ্যে বরিশাল ও পটুয়াখালীতে প্রায় ১০০টি ডিজিটাল ওয়াটার গ্রিড স্থাপন করা হয়েছে। এসব গ্রিড পরিচালনায় সৌরশক্তি ও অটোমেশনের ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। পাইপলাইনের এই পানির ব্যবহারের কারণে উপকূলীয় এলাকায় চর্মরোগ ও পেটের পীড়া উল্লেখযোগ্য হারে কমে এসেছে।

সফরকালে ডাচ দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি (পানি ও জলবায়ু) ক্লাসেন ইঙ্গে, সিনিয়র ফাইনান্সিয়াল অ্যাডভাইজার আমিনুল ইসলাম এবং ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইয়ামিন ফারুক উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন