পাবলিক পরীক্ষায় ডিজিটাল কারসাজির সাজা ৫ বছরের কারাদণ্ড

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৪ অপরাহ্ণ
পাবলিক পরীক্ষায় ডিজিটাল কারসাজির সাজা ৫ বছরের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবলিক পরীক্ষায় ডিজিটাল জালিয়াতি, ডাটাবেজে অননুমোদিত প্রবেশ, সংঘবদ্ধ কারসাজি এবং নিষিদ্ধ ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারের মতো অপরাধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রেখে সংসদে বিল পাস হয়েছে। 

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ‘দ্য পাবলিক এক্সামিনেশন্স (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’ বিলটি উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর মাধ্যমে ১৯৮০ সালের পুরোনো আইনটিকে প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় যুগোপযোগী করা হলো।

পরীক্ষার ডাটাবেজে অবৈধ প্রবেশ, হ্যাকিং, তথ্য পরিবর্তন বা রেকর্ডে কারসাজি করলে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হবে। পরীক্ষার্থীদের অসদুপায় অবলম্বনে সহায়তার জন্য চুক্তি করা, প্রস্তাব দেওয়া বা সংঘবদ্ধ চক্র তৈরি করলেও সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড হবে। অনুমতি ছাড়া কেন্দ্রে নিষিদ্ধ ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে প্রবেশ এবং সরকারি নির্দেশনা ইচ্ছাকৃতভাবে অমান্য করার শাস্তিও সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড। কোনো পরীক্ষক ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তরপত্রে অতিরিক্ত বা কম নম্বর দিলে সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড হতে পারে। তবে শাস্তির আগে তৃতীয় একজন পরীক্ষকের মাধ্যমে নম্বরের অসংগতি নিশ্চিত করা হবে। অপরাধে সহায়তাকারী সংস্থাকে কালো তালিকাভুক্ত বা লাইসেন্স বাতিল করা যাবে। অন্যদিকে, অপরাধের তথ্যদাতাদের (হুইসেলব্লোয়ার) পরিচয় গোপন রাখাসহ সুরক্ষার বিধান রাখা হয়েছে।

আইনে বলা হয়েছে, কোনো শিশু এই অপরাধে জড়ালে তার বিচার ‘শিশু আইন, ২০১৩’ অনুযায়ী হবে। মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য এসব অপরাধকে আমলযোগ্য ঘোষণা করে সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে বিচারের বিধান রাখা হয়েছে। প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ করে পাবলিক পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতেই এই আইন সংশোধন করা হয়েছে বলে বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন