ডিম্বাণু সংরক্ষণে শারীরিক-মানসিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে মুখ খুললেন কৃতি শ্যানন
বিনোদন ডেস্ক: বলিউড অভিনেত্রী কৃতি শ্যানন। পর্দায় দুর্দান্ত অভিনয় দক্ষতার পাশাপাশি নিজের ব্যক্তিগত জীবনের স্বাধীন ও সাহসী সিদ্ধান্তগুলোর কারণে সারাবছরই গণমাধ্যমের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন তিনি। এবার সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও চিকিৎসা সংক্রান্ত এক সাহসী পদক্ষেপ নিয়ে প্রকাশ্য আলোচনায় উঠে এলেন এই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী তারকা। কৃতি জানিয়েছেন, তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম সফল চলচ্চিত্র ‘মিমি’র প্রস্তুতির সময় তিনি নিজের ডিম্বাণু (এগ) সংরক্ষণ বা ‘এগ ফ্রিজিং’ করেছিলেন। আর এই সিদ্ধান্তকে তিনি তাঁর জীবনের সবচেয়ে বুদ্ধিদীপ্ত পদক্ষেপ এবং নিজেকে দেওয়া সেরা উপহার বলে মনে করেন।
সম্প্রতি ‘হিউম্যানস অফ বোম্বে’কে দেওয়া এক বিশেষ ও অকপট সাক্ষাৎকারে ৩৫ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী তাঁর জীবনের এই অজানা অধ্যায়টি উন্মোচন করেন। কৃতি জানান, ২০২১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘মিমি’ সিনেমায় একজন সারোগেট মায়ের চরিত্রে অভিনয়ের জন্য পরিচালকের পক্ষ থেকে তাঁকে বেশ খানিকটা ওজন বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। আর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ডিম্বাণু সংরক্ষণের পুরো প্রক্রিয়ায় শরীরে মারাত্মক হরমোনজনিত পরিবর্তন, মেজাজ বা আবেগের ওঠানামা এবং শরীর ফুলে যাওয়ার (ফোলাভাব) সম্ভাবনা থাকে। তাই দুই ক্ষেত্রের শারীরিক পরিবর্তনকে এক সুতোয় বাঁধতে তিনি মিমির প্রস্তুতির সময়টাকেই ডিম্বাণু সংরক্ষণের উপযুক্ত সময় হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন।
সেই সময়ের স্মৃতি চারণ করে কৃতি বলেন, ‘হলিউড ও বলিউডের একজন শুভাকাঙ্ক্ষী আমাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন— যদি সুযোগ আর সামর্থ্য থাকে, তবে ডিম্বাণু সংরক্ষণ করে রাখা উচিত। এটা একজন নারীর নিজেকে নিজে দেওয়া সবচেয়ে বড় উপহার ও স্বাধীনতা। কথাটা আমার মাথায় গভীরভাবে গেঁথে যায়। এরপর যখন মিমির জন্য ছবিতে ওজন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হলো, তখন ভাবলাম একই সাথে শরীরের এই হরমোনাল পরিবর্তনের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়ার এটাই তো সঠিক সময়।’
তবে বাইরে থেকে বিষয়টি যতটা সহজ মনে হয়, বাস্তবে তা মোটেও তেমন ছিল না বলে জানান কৃতি। তিনি স্পষ্ট করেন, এই চিকিৎসা প্রক্রিয়াটি শারীরিক ও মানসিক—উভয় দিক থেকেই ছিল ভীষণ রকম কষ্টদায়ক ও চ্যালেঞ্জিং। ডিম্বাণু সংরক্ষণের জন্য শরীরে প্রচুর ইনজেকশন ও হরমোন প্রয়োগ করতে হয়, যার কারণে তাঁর শরীরে উল্লেখযোগ্য হরমোনগত রূপান্তর ঘটেছিল এবং সেই দিনগুলোতে তাঁকে তীব্র মানসিক অবসাদ ও নানা ধরনের সংবেদনশীল আবেগের মধ্য দিয়ে পার হতে হয়েছিল।
কৃতি আরও জানান, কোনো ঝোঁকের মাথায় নয়, বরং অনেক ভেবেচিন্তে ও পড়াশোনা করেই তিনি এই পরিণত সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিলেন। তথাকথিত সামাজিক ‘বায়োলজিক্যাল ক্লক’ বা বয়সের কোঠা পার হয়ে যাওয়ার ভয়ে তাড়াহুড়ো করে বিয়ে বা সন্তান নেওয়ার ভুল সিদ্ধান্ত তিনি নিতে চাননি।
নিজের জীবনদর্শন তুলে ধরে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি কখনো নিজের মনে এমন কোনো অবান্তর চাপ বা ভয় অনুভব করতে চাইনি যে, বয়স হয়ে যাচ্ছে বলেই আমাকে এখনই তড়িঘড়ি করে বিয়ে করে সন্তান নিতে হবে। বিয়ে হোক কিংবা সন্তান প্রসব—এই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত একজন মানুষের তখনই নেওয়া উচিত, যখন সে মানসিক, শারীরিক ও অর্থনৈতিকভাবে ভেতর থেকে শতভাগ প্রস্তুত থাকবে। শুধু সামাজিক প্রথা বা বয়সের চাপের কারণে কোনো সম্পর্কে জড়ানো ঠিক নয়।’
কাজের ক্ষেত্রে কৃতি শ্যাননকে সর্বশেষ বড় পর্দায় দেখা গেছে ‘ককটেল-২’ সিনেমায়। হোমি আদাজানিয়া পরিচালিত এই হিট ছবিতে তাঁর সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেছেন অভিনেতা শহিদ কাপুর ও দক্ষিণি তারকা রাশমিকা মান্দানা। কেরিয়ারের পাশাপাশি নারীদের নিজেদের শরীরের ওপর নিজস্ব অধিকার ও স্বাধীনতা নিয়ে কৃতির এমন খোলামেলা বক্তব্য নেটদুনিয়ায় প্রশংসিত হচ্ছে।
|