উপজেলা পর্যায়ে ১৫১ শয্যার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ প্রধানমন্ত্রীর: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রকাশ: বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১০ অপরাহ্ণ
উপজেলা পর্যায়ে ১৫১ শয্যার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ প্রধানমন্ত্রীর: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্কঃ প্রান্তিক জনগণের দোরগোড়ায় মানসম্মত আধুনিক চিকিৎসাসেবা সুনিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার প্রতিটি উপজেলা পর্যায়ে ১৫১ শয্যার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার এক যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর ২০২৬) কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়া আকস্মিক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এই তথ্য তুলে ধরেন।

উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার ধারাবাহিক অগ্রগতির ঐতিহাসিক চিত্র স্মরণ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, "মানুষের দোড়গোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সর্বপ্রথম শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান উপজেলা পর্যায়ে ১৯ শয্যার প্রাথমিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই হাসপাতালগুলোকে পর্যায়ক্রমে ৩১ ও ৫০ শয্যায় উন্নীত করেন। আর বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে উপজেলা পর্যায়ে ১৫১ শয্যার পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।"

মন্ত্রী জানান, উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা বহুগুণ বাড়াতে হাসপাতালের ধারণক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অত্যাধুনিক চিকিৎসা সুবিধা যুক্ত করা হচ্ছে। বিশেষ করে নারী ও শিশু স্বাস্থ্যের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রস্তাবিত ১৫১ শয্যার প্রতিটি হাসপাতালে ১০টি করে কিডনি ডায়ালাইসিস বেড, প্রসূতি মায়েদের জন্য বিশেষ ২০ শয্যার ওয়ার্ড এবং নবজাতক ও শিশুদের জন্য ২০টি পৃথক বেড রাখার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর বাইরে পুরুষ ও নারীদের আলাদা ফিজিওথেরাপি সেবা প্রদান এবং মায়েদের জন্য ব্রেস্টফিডিং সেন্টার অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

সারাদেশে জরুরি রোগী পরিবহনে সাধারণ মানুষের সীমাহীন ভোগান্তি কমাতে সরকারের বিশেষ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সরকার একটি সার্বিক ‘অ্যাম্বুলেন্স পুল’ গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং আগামী অর্থবছরের মধ্যেই প্রয়োজনীয় নতুন অ্যাম্বুলেন্সের সংস্থান করা হবে।

পরিদর্শনকালে মুরাদনগর হাসপাতালের সার্বিক পরিচ্ছন্নতা ও চিকিৎসাসেবায় সন্তোষ প্রকাশ করলেও বেশ কিছু অনিয়ম শনাক্ত করায় মন্ত্রী অবিলম্বে তা সমাধানের নির্দেশ দেন। এ সময় কর্মস্থলে দীর্ঘদিন কোনো অনুমতি ছাড়া অনুপস্থিত থাকা পাঁচজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার এবং প্রেষণে বা অন্যত্র সংযুক্তিতে থাকা আরও সাতজন চিকিৎসককে অবিলম্বে তাদের মূল পদে ফিরিয়ে আনার সুনির্দিষ্ট নির্দেশ প্রদান করেন তিনি।

সকালবেলা / নুসরাত