চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন দুই মামলায় ৭ দিনের রিমান্ডে
অনলাইন ডেস্কঃ চট্টগ্রামের অপরাধ জগতের অন্যতম আলোচিত ও একাধিক হত্যা মামলার অভিযুক্ত ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মোট সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সিএমপির বাকলিয়া থানার একটি চাঞ্চল্যকর ডাবল মার্ডার মামলায় পাঁচ দিন এবং বায়েজিদ বোস্তামী থানার সরোয়ার বাবলা হত্যা মামলায় দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর ২০২৬) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সিএমপির কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম কারাগার থেকে ডেভিড ইমনকে আদালতে হাজির করা হয়। পৃথক দুই মামলায় পুলিশ তার রিমান্ডের আবেদন জানালে শুনানি শেষে আদালত রিমান্ডের এই আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (প্রসিকিউশন) মোহাম্মদ হাসান ইকবাল চৌধুরী।
মামলার সংশ্লিষ্ট নথিসূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ চট্টগ্রাম মহানগরীর বাকলিয়া এলাকায় তৎকালীন আরেক ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ সরোয়ার বাবলাকে লক্ষ্য করে চলন্ত প্রাইভেট কারে অতর্কিত গুলি চালায় একদল দুর্বৃত্ত। উক্ত ঘটনায় বাবলা অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেও তার সাথে থাকা দুজন নিহত হন। ওই ডাবল মার্ডার মামলার প্রধান সমন্বয়ক ও অন্যতম পরিকল্পনাকারী আসামি হিসেবে ডেভিড ইমনের নাম উঠে আসে।
অন্যদিকে, বায়েজিদ বোস্তামী থানার সন্ত্রাসী সরোয়ার বাবলা হত্যা মামলায় তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। এর আগে ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর বিএনপির চট্টগ্রাম নগর আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর সাথে ওয়াজেদিয়ায় নির্বাচনী গণসংযোগে অংশ নেওয়ার সময় সরোয়ার বাবলার পিঠে পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই হামলায় চট্টগ্রাম-৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ নিজেও গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছিলেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, ভারতে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে ‘বড় সাজ্জাদ’-এর অন্যতম প্রধান ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচিত ডেভিড ইমন। গত জুলাই মাসে অবৈধভাবে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় যশোরের কোতোয়ালি থানার ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে ডেভিড ইমনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তার এই রিমান্ডের মাধ্যমে চট্টগ্রামের আন্ডারওয়ার্ল্ড ও সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
সকালবেলা / নুসরাত