ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৮০ বছর পূর্তিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রকাশ: শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ১২:০৭ অপরাহ্ণ
ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৮০ বছর পূর্তিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান (ফাইল ছবি)।

অনলাইন ডেস্ক: ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) গৌরবময় ৮০ বছর পূর্তি ও ৮১তম ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ শনিবার (১১ জুলাই) সকাল সোয়া ১০টার দিকে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে পৌঁছান এবং একটি বিশেষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন ওনার সহধর্মিণী এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজেরই সাবেক কৃতী শিক্ষার্থী ডা. জুবাইদা রহমান। দীর্ঘদিন পর নিজের প্রিয় ক্যাম্পাসে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণীর আগমন অনুষ্ঠানটিতে এক ভিন্ন আবেগঘন আমেজ তৈরি করে।

 ঐতিহাসিক এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও গৌরবোজ্জ্বল উৎসব উদযাপন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের ‘২০ হোস্টেল প্রকল্প’ এর আওতায় ঢামেকের নারী শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসনে দুটি আধুনিক ছাত্রী হোস্টেলের নির্মাণকাজের ফলক উন্মোচন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে তিনি কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত মূল আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন। প্রধানমন্ত্রীর এই হাইপ্রোফাইল সফরকে ঘিরে পুরো ঢাকা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাস ও সংলগ্ন এলাকায় এক অভূতপূর্ব উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

এদিকে, আজ সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বর্তমান ও সাবেক চিকিৎসক, শিক্ষার্থী এবং সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এলাকা মুখর হয়ে উঠে। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের হাজার হাজার নেতাকর্মী খণ্ড খণ্ড মিছিল, স্লোগান ও রঙিন প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে রাজপথে অবস্থান নেন।

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় গাড়িবহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এলাকা হয়ে ঢামেকের উদ্দেশে রওয়ানা দেয়। গাড়িবহরটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় পৌঁছালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা সড়কের দুপাশে দীর্ঘ সারি তৈরি করে অবস্থান নেন। তুমুল স্লোগান ও করতালির মাধ্যমে তারা প্রধানমন্ত্রীকে রাজকীয় অভ্যর্থনা জানান। নেতাকর্মীদের বাঁধভাঙা উপস্থিতির কারণে এ সময় সড়কে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরের গতি কিছুটা কমে যায়। তখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ওনার গাড়ির উইন্ডো দিয়ে হাত নেড়ে নেতাকর্মীদের এই ভালোবাসার শুভেচ্ছার আন্তরিক জবাব দেন।

 প্রধানমন্ত্রীর এই গুরুত্বপূর্ণ সফর উপলক্ষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন যৌথভাবে পুরো এলাকায় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করে। হাসপাতাল ও কলেজসংলগ্ন ফুটপাত থেকে দীর্ঘদিন ধরে জেঁকে বসা ভ্রাম্যমাণ হকার, অস্থায়ী খাবারের দোকান, অবৈধ স্টেশনারি ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও অপসারণ করা হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিন পর ঢামেকের সম্মুখভাগের ফুটপাত তার স্বাভাবিক ও পরিচ্ছন্ন অবস্থায় ফিরে এসেছে এবং বহিরাঙ্গনের চিরস্থায়ী যানজট অনেকাংশে কমেছে। জরুরি রোগী নিয়ে আসা স্বজন, সাধারণ পথচারী ও নগরবাসী কর্তৃপক্ষের এই সময়োপযোগী ও স্থায়ী উদ্যোগে গভীর স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই ঐতিহাসিক সফর ঘিরে বর্তমান ও সাবেক চিকিৎসকদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। তাদের প্রত্যাশা, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপে দেশের শীর্ষ এই চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসা শিক্ষা ও হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে এবং দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা বিভিন্ন প্রশাসনিক ও লজিস্টিক সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে।

সফর প্রসঙ্গে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সাবেক শীর্ষ সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিএনপির বর্তমান স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম একটি বিশেষ প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, “ঢাকা মেডিকেল কলেজ এদেশের সব ঐতিহাসিক ক্রান্তিলগ্নের অন্যতম প্রধান ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী গণঅভ্যুত্থান এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের চব্বিশের ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও এই প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের ভূমিকা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।”

তিনি আরও যোগ করে বলেন, “সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তাঁর শাসনামলে ঢাকা মেডিকেলের বহুতল নতুন ভবন ও আধুনিক পরিকাঠামোগত উন্নয়নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। আজ সেই ধারাবাহিকতায় নতুন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আমাদের মাঝে এসেছেন, যা আমাদের সকলের জন্য অত্যন্ত আবেগঘন, গর্বের ও সীমাহীন আনন্দের বিষয়।”

মন্তব্য করুন