শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার অনুরোধ সরকারের

প্রকাশ: শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ
শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার অনুরোধ সরকারের
ক্ষমতাচ্যুত ও পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

অনলাইন ডেস্ক: আদালত কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত ও বর্তমানে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যেকোনো ধরনের বক্তব্য, বিবৃতি ও সাক্ষাৎকার দেশের কোনো গণমাধ্যমে প্রচার না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে সরকার। গতকাল শুক্রবার (১০ জুলাই) সরকারের এক জরুরি অফিশিয়াল তথ্য বিবরণীতে এই আইনগত নিষেধাজ্ঞা মেনে চলতে দেশের সকল সংবাদমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

সরকারি ওই তথ্য বিবরণীতে দেশের সব প্রিন্ট (সংবাদপত্র), ইলেকট্রনিক (টেলিভিশন ও বেতার), অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং সর্বস্তরের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোর (ফেসবুক, ইউটিউব, এক্স ইত্যাদি) দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। এতে স্পষ্টভাবে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয় যে, বিগত ২০২৪ সালের ৫ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) ক্ষমতাচ্যুত ও ভারতসহ অন্যান্য দেশে পলাতক শেখ হাসিনার যেকোনো ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য ও রাজনৈতিক ভাষণ প্রচারে সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।

তথ্য বিবরণীতে বলা হয়, বাংলাদেশের প্রচলিত বিদ্যমান ফৌজদারি ও বিশেষ আইন অনুযায়ী, দেশের আদালত কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত কিংবা আদালতের পরোয়ানাভুক্ত কোনো পলাতক অপরাধীর কোনো ধরনের বক্তব্য, সাক্ষাৎকার, অডিও-ভিডিও ভাষণ বা রাজনৈতিক বিবৃতি গণমাধ্যমে প্রচার ও প্রকাশ করার ব্যাপারে সুস্পষ্ট ও কঠোর আইনগত নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

 বিবরণীতে আরও উল্লেখ করা হয়, “এমতাবস্থায়, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল রাখার স্বার্থে এবং দেশের সম্মানিত আদালতের নির্দেশনার প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করে পলাতক আসামি শেখ হাসিনার কোনো প্রকার ভাষণ, বিবৃতি, সাক্ষাৎকার বা রাজনৈতিক বক্তব্য—তা সরাসরি (লাইভ) কিংবা পূর্বে ধারণকৃত (রেকর্ডেড) যে অবস্থাতেই থাকুক না কেন, কোনো গণমাধ্যমে (টেলিভিশন, বেতার, সংবাদপত্র, অনলাইন নিউজ পোর্টাল বা সামাজিক মাধ্যম) প্রচার বা প্রকাশ না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা যাচ্ছে।”

বর্তমান সরকার গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করে তথ্য বিবরণীতে জানায় যে, দেশের সকল দায়িত্বশীল গণমাধ্যম, তথ্যপ্রযুক্তির সাথে সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজন (স্টেকহোল্ডার) এবং সাধারণ নাগরিকবৃন্দ দেশের প্রচলিত আইন ও আদালতের পবিত্র নির্দেশনার প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা প্রদর্শন করবেন এবং তা অক্ষরে অক্ষরে প্রতিপালনে সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবেন। আদালতের এই আদেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

মন্তব্য করুন