নিউইয়র্কে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর থেকেই অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি শেষে স্থানীয় সময় সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেলে জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাঁকে ও তাঁর সফরসঙ্গীদের উষ্ণ সংবর্ধনা জানান যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, স্থায়ী প্রতিনিধি এবং প্রবাসী বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী। বিমানবন্দর থেকে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে তাঁকে নিউইয়র্কের ঐতিহাসিক ‘হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল’ হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়; এই সফরে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২১ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত এই পাঁচ দিনের সংক্ষিপ্ত অথচ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সফরে প্রধানমন্ত্রী একগুচ্ছ উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচি ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন। তাঁর এই সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান (যিনি ইতিমধ্যে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন), অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, বিমানমন্ত্রী রাশিদুজ্জামান মিল্লাতসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারক ও রাজনৈতিক নেতারা সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন।
ব্যস্ত সফরসূচি ও বিশ্বনেতাদের সঙ্গে বৈঠক নিউইয়র্ক পৌঁছানোর পর আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) থেকেই প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক ও কূটনৈতিক কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হয়েছে। সূচি অনুযায়ী, আজ তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের আমন্ত্রণে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের জন্য আয়োজিত স্বাগত প্রাতঃরাশে অংশ নেওয়ার পর সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দেবেন। একই দিন সন্ধ্যায় মার্কিন রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে বিশ্বনেতাদের সম্মানে আয়োজিত বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেও সস্ত্রীক যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
সফরের প্রথম দিনেই বেশ কয়েকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মধ্যে রয়েছে—তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা, হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ে এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তার সঙ্গে হাই-প্রোফাইল বৈঠক। এ ছাড়া জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহ, মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক এবং মেটা প্ল্যাটফর্মসের চিফ গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স অফিসার জোয়েল কাপলানের সঙ্গেও তাঁর পৃথক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
আগামীকাল ২৩ সেপ্টেম্বর সকালে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে প্রাতঃরাশ বৈঠকে অংশগ্রহণের পর ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই প্লেনকোভিচের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। বিকেলে বোয়িং গ্লোবালের প্রেসিডেন্ট ড. ব্রেন্ডান নেলসনের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং এই সফরে বিখ্যাত বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদে ঐতিহাসিক ভাষণ এই সফরের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক সময় বিকেল সাড়ে ৫টায় (বাংলাদেশ সময় ২৫ সেপ্টেম্বর ভোর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বহুল প্রতীক্ষিত ভাষণ। এই ভাষণে তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, সুশাসন, মানবাধিকার, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, টেকসই উন্নয়ন এবং রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের রূপরেখা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবেন। ওই দিনই তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল এবং জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে একান্ত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হবেন।
সফরের শেষ দিন ২৫ সেপ্টেম্বর ওয়াল স্ট্রিটের জেপি মরগান আয়োজিত প্রাতঃরাশ বৈঠক, কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহর সঙ্গে বৈঠক এবং ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। সমস্ত কূটনৈতিক ব্যস্ততা সেরে ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে এমিরেটস এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে দুবাই হয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী এবং আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে তাঁর ঢাকায় অবতরণ করার কথা রয়েছে।
জ্যাকসন হাইটসে রাজনৈতিক উত্তেজনা এদিকে প্রধানমন্ত্রীর এই যুক্তরাষ্ট্র সফরকে কেন্দ্র করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটস এলাকায় রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। সফরকে স্বাগত জানিয়ে মূল সড়কে বিভিন্ন ব্যানার ও পোস্টার টানানোকে কেন্দ্র করে রোববার স্থানীয় বিএনপি ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও পাল্টাপাল্টি স্লোগানের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে নিউইয়র্ক সিটি পুলিশের বিপুলসংখ্যক সদস্য দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে কঠোর অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।