ভেনিজুয়েলার ভূমিকম্প বাংলাদেশের জন্যও বড় সতর্কবার্তা: শায়খ আহমাদুল্লাহ
বিশেষ প্রতিবেদক: প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানুষের চরম অসহায়ত্ব ও পৃথিবীর ক্ষণস্থায়ী বাস্তবতার এক নির্মম স্মারক। একটি শক্তিশালী ভূকম্পন মুহূর্তের মধ্যে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা অট্টালিকা, উন্নত অবকাঠামো ও জীবনের সব স্বপ্ন। সম্প্রতি ভেনিজুয়েলায় আঘাত হানা ভয়াবহ ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি এই প্রলয়ংকরী ঘটনাকে বাংলাদেশের জন্য একটি চরম সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে শায়খ আহমাদুল্লাহ এই উদ্বেগ ও পরামর্শের কথা তুলে ধরেন।
ফেসবুক পোস্টে শায়খ আহমাদুল্লাহ ভেনিজুয়েলার ভয়াবহ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করে লেখেন, এই বিপর্যয়ে বিপুল সংখ্যক মানুষের হতাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা পুরো বিশ্বের জন্যই এক চরম বেদনার বিষয়।
তিনি উল্লেখ করেন, এমন দুর্যোগ মানুষকে বারবার স্মরণ করিয়ে দেয় যে মহান আল্লাহর অসীম ক্ষমতার সামনে মানবজাতি কতটা ক্ষুদ্র ও নিরূপায়। আধুনিক যুগের উন্নত প্রযুক্তি, মজবুত অবকাঠামো কিংবা বিপুল অর্থ-সম্পদ— কোনো কিছুই প্রকৃতির এই ভয়াল শক্তির সামনে মানুষকে চূড়ান্ত নিরাপত্তা দিতে পারে না।
শায়খ আহমাদুল্লাহ ভূমিকম্পের এই ধ্বংসলীলাকে আখিরাতের বাস্তবতার সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বলেন, মানুষ যে স্থাপনা ও সম্পদ গড়তে যুগের পর যুগ সময় ব্যয় করে, একটি তীব্র ঝাঁকুনি মুহূর্তের মধ্যেই তা মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়। কেয়ামতের দিনও মহাবিশ্বের সব আয়োজন ঠিক একইভাবে ধ্বংস হয়ে যাবে। তাই এমন আকস্মিক ঘটনা মানুষের জন্য শিক্ষা, আত্মসমালোচনা এবং আল্লাহর দিকে ফিরে আসার একটি বড় সুযোগ।
শায়খ আহমাদুল্লাহ মনে করেন, ভেনিজুয়েলার এই দুর্যোগ বাংলাদেশের জন্য একটি বড় লাল সংকেত। কারণ, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরেই ঘন ঘন মৃদু ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হচ্ছে, যা বড় ধরনের ভূতাত্ত্বিক ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়।
তিনি বিশেষ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় বড় শহরগুলোতে অপরিকল্পিত নগরায়ণ ভবিষ্যতের সম্ভাব্য ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতিকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। মাত্রাতিরিক্ত জনসংখ্যার ঘনত্ব, সংকীর্ণ রাস্তাঘাট, পর্যাপ্ত খোলা জায়গার অভাব এবং বিল্ডিং কোড (নির্মাণ বিধিমালা) না মেনে ভবন তৈরির প্রবণতা বড় দুর্যোগে উদ্ধার কার্যক্রমকে প্রায় অসম্ভব করে তুলবে। বাংলাদেশে যদি ভেনিজুয়েলার মতো শক্তিশালী কোনো ভূমিকম্প আঘাত হানে, তবে এর পরিণতি কতটা ভয়াবহ রূপ নেবে তা কেবল আল্লাহই ভালো জানেন।
ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণের ওপরও বিশেষ জোর দিয়েছেন এই ইসলামি আলোচক। তিনি সাধারণ জনগণকে ভবন নির্মাণের সময় সব ধরনের নিরাপত্তাবিধি ও নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।
একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি কর্তৃপক্ষের প্রতি দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম, আধুনিক ও কার্যকর প্রস্তুতি গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন। তাঁর মতে, সঠিক নগর পরিকল্পনা, ভূমিকম্প সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত উদ্ধার ব্যবস্থার আধুনিকায়নই পারে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনতে।
পোস্টের শেষাংশে শায়খ আহমাদুল্লাহ মানুষের আত্মশুদ্ধি ও স্রষ্টার প্রতি বিনয়ী হওয়ার প্রয়োজনীয়তা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কেবল বৈজ্ঞানিক বা ভৌগোলিক ঘটনা নয়; এটি মানুষের জন্য আত্মপর্যালোচনার একটি উপলক্ষও বটে। তাই তিনি সবাইকে আল্লাহর কাছে খাঁটি মনে তওবা, ইস্তিগফার ও নেক আমলের মাধ্যমে নিজেদের জীবনকে সংশোধন করার আহ্বান জানান।
এআইএল/সকালবেলা
|