শেখ হাসিনার এক বছরের খাবার খরচ ৩৫ কোটি টাকা

প্রকাশ: রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৯ অপরাহ্ণ
শেখ হাসিনার এক বছরের খাবার খরচ ৩৫ কোটি টাকা

সংসদ রিপোর্টার: মুজিববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি, ভাস্কর্য, প্রতিকৃতি ও ডিজিটাল কাউন্টডাউন বোর্ড নির্মাণে মোট ৯৮২ কোটি ৯১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একই সঙ্গে তিনি তথ্য দেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কেবল এক বছরের খাবার বাবদ রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা।

আজ রোববার (১২ জুলাই) জাতীয় সংসদে স্পিকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলালের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের মোট ৬২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে ৪৩টির মাধ্যমে এই বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মুজিববর্ষের কর্মসূচিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ ২৮৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। এছাড়া উল্লেখযোগ্য ব্যয়ের মধ্যে রয়েছে—রেলপথ মন্ত্রণালয় ২০৬ কোটি ৭৩ লাখ, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ১৪০ কোটি ৪৫ লাখ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ১৩৩ কোটি ৩ লাখ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৪৭ কোটি ৬৬ লাখ, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ২৬ কোটি ২৬ লাখ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ২৪ কোটি ৩০ লাখ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ২৩ কোটি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ২০ কোটি ৪৯ লাখ টাকা।

সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল তাঁর সম্পূরক প্রশ্নে জানতে চান, এই বিপুল ব্যয়ের কোনো অডিট বা তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না।

উত্তরে অর্থমন্ত্রী বলেন, “মুজিববর্ষের ব্যয়ের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত তদন্তের সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে আগের সরকারের আমলের সব ধরনের ব্যয়ের হিসাব যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এটা তো শুধু মুজিববর্ষ, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর এক বছরের খাওয়া-দাওয়ার পেছনেই খরচ দেখানো হয়েছে ৩৫ কোটি টাকা! আমরা ক্রমান্বয়ে সব খাতের হিসাব পরীক্ষা (স্টক চেকিং) করছি এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার অপর এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, জনগণের অর্থ লুট করে যারা বিদেশে পাচার করেছে, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের আইনি ব্যবস্থা ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, “পাচারকারীদের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। ইতিমধ্যে অনেকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং সম্পত্তি জব্দের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।”

এ ছাড়া সার্কভুক্ত দেশগুলোর ঋণ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত তিনটি লাইন অব ক্রেডিট (এলওসি) চুক্তির আওতায় বর্তমানে দেশে সাতটি উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন