রাজশাহী আদালতে মাদক মামলার জট: ধীর বিচারপ্রক্রিয়ায় উদ্বেগ

প্রকাশ: বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৪ অপরাহ্ণ
রাজশাহী আদালতে মাদক মামলার জট: ধীর বিচারপ্রক্রিয়ায় উদ্বেগ

রাজশাহী ব্যুরো: মাদকের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত থাকলেও বিচারপ্রক্রিয়ার ধীরগতির কারণে রাজশাহীতে মাদক মামলার জট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) তথ্য অনুযায়ী, দেশের একক জেলা হিসেবে বর্তমানে রাজশাহীতেই সর্বোচ্চ ২৫ হাজার ৬৭১টি মাদক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এতে বিচারপ্রত্যাশী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আদালত—সব পক্ষই চরম চাপের মুখে পড়েছে।

রাজশাহীতে মাদকের প্রকোপের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। তিনি রাজশাহী থেকে মাদক কারবারিদের সম্পূর্ণ নির্মূল করতে প্রশাসনকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে যাচ্ছেন। উল্লেখ্য, সারা দেশে বিচারাধীন মাদক মামলার সংখ্যা ৮০ হাজারেরও বেশি, যার মধ্যে সর্বাধিক মামলাই রাজশাহীর।

আইনজীবীদের মতে, মামলার জটের অন্যতম প্রধান কারণ নির্ধারিত তারিখে সাক্ষীদের আদালতে উপস্থিত না হওয়া এবং নিয়মিত সাক্ষ্যগ্রহণে বিলম্ব। বারবার সমন জারি করা হলেও অনেক ক্ষেত্রে সাক্ষীরা আদালতে হাজির হন না, আবার তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হয় না।

এর একটি বাস্তব উদাহরণ—২০১৮ সালের ১০ জুলাই গোদাগাড়ীর সুলতানগঞ্জ থেকে ১ কেজি ২১০ গ্রাম হেরোইনসহ গ্রেপ্তার হন নুরুল ইসলাম। তাঁর মামলাটি বর্তমানে রাজশাহী বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতে বিচারাধীন। আড়াই বছর আগে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হলেও ১৪ জন সাক্ষীর মধ্যে মাত্র দুজন সাক্ষ্য দিয়েছেন। বাকিরা একাধিকবার সমন পেয়েও আদালতে আসেননি। ফলে দীর্ঘ আট বছর পেরিয়ে গেলেও মামলাটির নিষ্পত্তি হয়নি।

রাজশাহী বারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সালাহউদ্দিন বিশ্বাস বলেন, "সাক্ষীদের আদালতে হাজির করে সাক্ষ্যগ্রহণ নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রপক্ষের। তবে এ ক্ষেত্রে কার্যকর তৎপরতার ঘাটতি রয়েছে।"

ডিএনসি সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৯ হাজার ৩৫৫টি, মহানগর দায়রা জজ আদালতে flag ৭ হাজার ১৬০টি, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৬ হাজার ৭৪৯টি এবং জেলা ও দায়রা জজসহ অন্যান্য আদালতে ৩ হাজার ৬০৭টি মাদক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

এদিকে চলতি বছরের এপ্রিল ও মে মাসেই ডিএনসি, জেলা পুলিশ ও মহানগর পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থার মাদকবিরোধী অভিযানে শত শত ব্যক্তি গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং আরও কয়েকশ নতুন মামলা যুক্ত হয়েছে।

রাজশাহীর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট রইসুল ইসলাম রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের এককভাবে দায়ী করতে রাজি নন। তাঁর মতে, তদন্তে দীর্ঘসূত্রতা, সাক্ষী হাজিরে পুলিশের অসহযোগিতা, আসামিপক্ষের সময়ের আবেদন এবং আদালতের ব্যস্ততা—সব মিলিয়েই এই জট তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা মাদক নিয়ন্ত্রণ ও প্রচার কমিটির সভাপতি এবং জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, যৌক্তিক সময়ের মধ্যে কীভাবে এই বিপুলসংখ্যক মাদক মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি করা যায়, সে বিষয়ে আগামী কমিটির সভায় বিস্তারিত আলোচনা ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন