মুলাদীতে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত যুবকের মৃত্যু
সাঈদ পান্থ, বরিশাল: বরিশালের মুলাদীতে প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার ২৬ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মিলন হাজী (২৩) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল সাতটার দিকে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সাবেক পিজি) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
নিহত মিলন হাজী মুলাদী উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের বাণীমর্দন গ্রামের মৃত আব্দুর রহিম হাজীর ছেলে। তাঁর মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছানোর পর নতুন করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নাজিরপুর ও চরকালেখান ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ মে ঈদুল আজহার পরের দিন বিকেলে মিলনের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী চরকালেখান ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের কয়েকজন যুবকের তুচ্ছ বিষয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে পরের দিন ৩০ মে বিকেলে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে একদল সন্ত্রাসী মিলনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় মিলনকে প্রথমে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সর্বশেষ উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে পিজি হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়েছিল।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, মিলনের মৃত্যুর আগেই গত ৩ জুন এলাকায় তাঁর মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই গুজবের জেরে ক্ষুব্ধ জনতা ও মিলনের স্বজনরা প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে ব্যাপক হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দাবি, হামলাকারীরা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান মালামাল লুটের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি গবাদিপশুও ধরে নিয়ে যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং উদ্ধারকৃত গবাদিপশু প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে মিলনের প্রকৃত মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছালে বাণীমর্দন জয়বাংলা বাজার ও লক্ষ্মীপুর এলাকায় পুনরায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এই দুই পয়েন্টে তাৎক্ষণিকভাবে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
এ ঘটনায় মিলনের ভাই নাসির হাওলাদার বাদী হয়ে আবু তাহের (২৫), রোমান (২৭), রাজু (২৫), রনি (২৫), রাব্বীসহ (২৩) ৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ১৮ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মুলাদী থানায় আগেই একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেছিলেন।
মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মো. সোহেল রানা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “চিকিৎসাধীন মিলন হাজী মারা গেছেন। এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যেহেতু ভুক্তভোগী মারা গেছেন, তাই পূর্বে দায়েরকৃত মামলায় এখন দণ্ডবিধির ৩০২ (হত্যা) ধারা সংযোজনের জন্য আদালতে আবেদন করা হবে। এজাহারভুক্ত ও জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
এআইএল/সকালবেলা
|