বিশ্ব মাদকবিরোধী দিবস আজ
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আজ ২৬ জুন বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস। ১৯৮৭ খ্রিষ্টাব্দে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভায় এই দিনটিকে মাদকবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর পরের বছর অর্থাৎ ১৯৮৮ খ্রিষ্টাব্দ থেকে বিশ্বব্যাপী মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার রোধে দিবসটি আনুষ্ঠানিকভাবে পালিত হয়ে আসছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে তালমিলিয়ে বাংলাদেশেও আজ বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। এবারের আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— 'বিশ্ব মাদক সমস্যা: স্থায়ী সমস্যা, নতুন চ্যালেঞ্জ, উদ্ভাবনী পদক্ষেপ'।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঐতিহাসিক তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশে ১৯৮০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত গাঁজাসহ বিভিন্ন রকমের মদ ছিল সাধারণ মাদক। সে সময় রাজস্ব আদায়ের উদ্দেশ্যে সরকারি নিবন্ধিত দোকানেও বৈধভাবে গাঁজা ও আফিম বিক্রি হতো। তবে আশির দশকের শেষ দিকে সরকারিভাবে গাঁজা নিষিদ্ধ করা হলে, এর জায়গা দখল করে নেয় হেরোইন। কিন্তু নিষিদ্ধ হওয়ার পর গাঁজার বাজার বন্ধ না হয়ে উল্টো আরও সংকুচিত থেকে বড় আকার ধারণ করে। এর কয়েক বছর পর কাশির ওষুধ হিসেবে পরিচিত ফেনসিডিল বাংলাদেশে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়, যা মূলত পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে অবৈধ পথে বাংলাদেশে আসতে শুরু করে। ফলে ২০০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ফেনসিডিলই ছিল দেশের সবচেয়ে প্রচলিত ও অন্যতম প্রধান মাদক।
পরবর্তী সময়ে দেশের মাদকাসক্তদের মধ্যে ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক নেওয়ার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পায়। তখন ফেনসিডিল ও হেরোইনের জায়গা দখল করে নেয় ইনজেকশন জাতীয় বিভিন্ন মাদক। ২০০০ খ্রিষ্টাব্দের পর মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসতে শুরু করে নতুন ধরনের সিনথেটিক ড্রাগ, যা ইয়াবা নামে পরিচিতি পায়। ২০০৫ খ্রিষ্টাব্দের পর এই সিনথেটিক ড্রাগ সারা দেশে এক মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ে। একই সময়ে সুবিধাবঞ্চিত ও পথশিশুদের মধ্যে অত্যন্ত সস্তা মাদক হিসেবে ড্যান্ডি বা আঠার প্রচলন ব্যাপকভাবে বাড়ে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, বর্তমান সময়ে ক্রিস্টাল মেথ (আইস), এলএসডি, ডিওবি এবং এমডিএমএর মতো উচ্চমূল্যের ও অত্যন্ত ক্ষতিকর আধুনিক সিনথেটিক মাদক দেশের শহরাঞ্চলের তরুণদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও প্রযুক্তির ব্যবহার এসব নতুন মাদকের বিস্তার ও সরবরাহকে আরও সহজ করে তুলেছে, যার ফলে এখন কিশোর ও শিশুদের মধ্যেও মাদক সেবনের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।
এন.তমা/সকালবেলা
|