কিশোরগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সেমিনার অনুষ্ঠিত

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ০৩:৩৭ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সেমিনার অনুষ্ঠিত

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তোলার লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জ পৌরসভার উদ্যোগে এক বিশেষ সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। “পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ি, ডেঙ্গুমুক্ত দেশ গড়ি” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে পৌরসভার মিলনায়তনে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন কিশোরগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক (ডিডিএলজি) জেবুন নাহার শাম্মী। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) সোহানা নাসরিন।

এছাড়া অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন— অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইশতিয়াক ইমন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুল হাসান মারুফ, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ শফিকুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, স্বাস্থ্যকর্মী, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু একটি মশাবাহিত রোগ হলেও সামাজিক সচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে এর বিস্তার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। শুধু সরকারি বা প্রশাসনের উদ্যোগের ওপর নির্ভর না করে প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

বক্তারা বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত এবং আশপাশের পরিবেশ সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেন। ফুলের টব, ডাবের খোসা বা টায়ারে যাতে কোনোভাবেই জমে থাকা পানিতে এডিস মশার লার্ভা জন্ম নিতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন বলেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তি ও পারিবারিক সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। নিজের বাড়ি, আঙিনা ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে এবং কোথাও তিন দিনের বেশি পানি জমতে দেওয়া যাবে না। আমরা সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করলে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা থেকে রক্ষা পেতে পারি।”

সেমিনারে “নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখি, সবাই মিলে সুস্থ থাকি” এবং “তিন দিনে একদিন, জমা পানি ফেলে দিন” এই স্লোগানগুলো তুলে ধরে নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনে তা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়।

পৌর কর্তৃপক্ষ জানায়, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত সমন্বয়ই সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, মশক নিধন ক্র্যাশ প্রোগ্রাম ও এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের মাধ্যমে কিশোরগঞ্জকে ডেঙ্গুমুক্ত রাখার এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন