গজলডোবার সব গেট খোলায় তিস্তায় বন্যা আতঙ্ক
মানজুরুল ইসলাম, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: ভারতের গজলডোবা ব্যারেজের সবগুলো গেট খুলে দেওয়ার পর লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে নদীর পানি ডালিয়া পয়েন্টে দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। এতে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে তীব্র বন্যা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ডালিয়া পানি পরিমাপ স্টেশনের তথ্য অনুযায়ী, আজ বিকেল ৩টার সর্বশেষ আপডেটে তিস্তার পানি বিপদসীমার (৫২.১৫ মিটার) মাত্র ১.০ সেন্টিমিটার নিচে অবস্থান করছে, যা যেকোনো সময় ডেঞ্জার লেভেল অতিক্রম করতে পারে।
হঠাৎ উজান থেকে নেমে আসা পানির তীব্র চাপ নিয়ন্ত্রণ ও পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট (গেঁট) একযোগে খুলে দিয়েছে ব্যারেজ কর্তৃপক্ষ।
তিস্তা ব্যারেজ কন্ট্রোল রুমের ইনচার্জ নুরুল ইসলাম জানান, উজান থেকে আসা ঢলে মঙ্গলবার ভোর থেকেই তিস্তার পানি হু হু করে বাড়তে শুরু করে। সকাল ৬টায় পানি বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও বিকেল ৩টার দিকে তা বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১.০ সেমি. ছুঁই ছুঁই অবস্থায় রয়েছে।
হঠাৎ নদী উত্তাল হয়ে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় লালমনিরহাটের তিস্তা নদী সংলগ্ন ৮৯টি চরে বসবাসরত হাজার হাজার মানুষের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। নদী পাড়ের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বর্ষা মৌসুমে ভারত গজলডোবা ব্যারেজের গেট খুলে দেওয়ায় আমাদের এখানে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আমরা সবসময় ঘরবাড়ি ও ফসল তলিয়ে যাওয়ার আতঙ্কে থাকি।”
তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্পের ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, “উজানের ঢলে পানি দ্রুত বাড়ছে। পানি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যারেজের সবগুলো (৪৪টি) গেট উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি আমরা সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।”
পানি বৃদ্ধির ফলে তিস্তা তীরবর্তী চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সার্বিক পরিস্থিতির ওপর কড়া নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।
এআইএল/সকালবেলা
|