দেশে সারের সংকট নেই, কৃত্রিম সংকটকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: কৃষিমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে সারের কোনো বাস্তব ঘাটতি বা সংকট নেই উল্লেখ করে কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, জাতীয় চাহিদার তুলনায় প্রতিবছর প্রায় ১৫ লাখ টন বেশি সার আমদানি করা হয়। এর পরও একটি অতি লোভী ও অসাধু মহল পরিকল্পিতভাবে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজারে সারের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে।
আজ শনিবার (২৯ আগস্ট ২০২৬) দুপুরে ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
কৃষিবান্ধব নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, “কৃষকের উন্নয়ন নিশ্চিত হলেই সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত হবে। তাই কৃষকের স্বার্থরক্ষায় সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। পর্যাপ্ত সার মজুত থাকা সত্ত্বেও কিছু খুচরা বিক্রেতা বাজারে সার নেই বলে প্রচার করছেন, অথচ বেশি টাকা দিলেই সেই সার সরবরাহ করছেন। এই কারসাজি স্পষ্টতই প্রমাণ করে এটি কৃত্রিম সংকট। যারা অবৈধভাবে সারের বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ডিলারদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন, কোনো ডিলার যদি সময়মতো বরাদ্দকৃত সার উত্তোলন না করে কিংবা কৃষকদের কাছে ন্যায্যমূল্যে না পৌঁছায়, তবে তাদের লাইসেন্স ও ডিলারশিপের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কৃষিতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, “ভবিষ্যতে পাট ও পেঁয়াজের বীজসহ কোনো কৃষিপণ্য যাতে বিদেশ থেকে আমদানি করতে না হয়, সেই লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। প্রয়োজনীয় পণ্য অভ্যন্তরীণভাবে উৎপাদনের মাধ্যমে স্বনির্ভরতা অর্জনই আমাদের মূল লক্ষ্য। ফরিদপুরের মাটি অত্যন্ত উর্বর ও সমৃদ্ধ, তাই চরাঞ্চলসহ জেলার পতিত জমিগুলোতে উৎপাদন বাড়ানোর ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।”
সভায় ফরিদপুরের চরাঞ্চলে ডাল, রসুন, পেঁয়াজ ও পাটবীজ উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশি মাছের চাষ সম্প্রসারণ এবং উন্নত জাতের ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল পালন কর্মসূচি জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। মতবিনিময় শেষে কৃষকদের মাঝে উন্নতমানের পাটবীজ, কৃষি যন্ত্রপাতি (অ্যাগ্রো-মেশিন) ও চেক বিতরণ করেন মন্ত্রী। পরবর্তীতে তিনি সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে চাষিদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং বিকেলে জেলার সংরক্ষিত পেঁয়াজ ও পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন খামার পরিদর্শন করেন।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম, ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সোহরাব হোসেন, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাসরিন জাহান, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এস এম আসজাদ এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. শাহদুজ্জামান প্রমুখ।