নাগরপুরে তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত

প্রকাশ: সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ০৩:৩২ অপরাহ্ণ
নাগরপুরে তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত

রিপন খান রবিন, নাগরপুর উপজেলা প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের নাগরপুরে বিদ্যুতের তীব্র ও লাগামহীন লোডশেডিংয়ে জনজীবন সম্পূর্ণ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি এই বিদ্যুৎ বিভ্রাট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। একদিকে জ্যৈষ্ঠের প্রচণ্ড দাবদাহ ও অসহনীয় গরম, অন্যদিকে বিদ্যুৎ না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ এখন চরমে। অতিরিক্ত গরমে বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা পানিবাহিত রোগসহ নানা ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছেন। এ ছাড়া বিদ্যুৎ-নির্ভর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

নাগরপুর জোনাল পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের আওতাভুক্ত গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার। উপজেলার নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ চাহিদার পরিমাণ ২৮ মেগাওয়াট। অথচ এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৯ মেগাওয়াট। এই সামান্য ৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিয়ে জোড়াতালি দিয়ে পুরো উপজেলায় সরবরাহ সচল রাখার চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ।

গ্রাহকদের অভিযোগ, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে। স্থানীয় গ্রাহক মো. আয়নাল সিকদার বলেন, "বিদ্যুৎ এখন যায় না, মাঝে মধ্যে শুধু একটু আসে। উপজেলা সদরে দিনে-রাতে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া গেলেও গ্রামাঞ্চলের অবস্থা আরও করুণ।" এ ছাড়া ভোল্টেজ ওঠা-নামার কারণে অনেকের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম নষ্ট হচ্ছে এবং বিদ্যুৎ বিল বেশি আসছে বলে একাধিক গ্রাহক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এদিকে টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনের নির্বাচনী এলাকায় এই তীব্র বিদ্যুৎ সংকট দূর করতে স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. রবিউল আওয়াল লাভলু বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী বরাবর একটি ডেমি অফিশিয়াল (ডিও) লেটার পাঠিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে বিষয়টি আমলে নিয়ে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) চেয়ারম্যানকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংসদ সদস্য আশা প্রকাশ করে জানান, সরকারি পদক্ষেপের মাধ্যমে সহসাই এই বিদ্যুৎ বিপর্যয় কেটে যাবে।

পল্লী বিদ্যুৎ নাগরপুর জোনাল অফিসের অতিরিক্ত ডিজিএম নয়ন চন্দ্র সরকার লোডশেডিংয়ের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, "চাহিদার তুলনায় সরবরাহ এক-তৃতীয়াংশেরও কম হওয়ায় বাধ্য হয়ে আমাদের লোডশেড করতে হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ বাড়লে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে।"

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন